ঢাকা | মে ১৮, ২০২৬ - ১২:৪৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বার্সার জয়ের রাতে লেভানডফস্কির অশ্রুসিক্ত বিদায়

  • আপডেট: Monday, May 18, 2026 - 12:01 pm

স্পোর্টস ডেস্ক।। লা লিগায় ঘরের মাঠে শতভাগ জয়ের ইতিহাস গড়ার রাতে চোখের জলে স্পোটিফাই ক্যাম্প ন্যু-কে বিদায় জানালেন রবার্ট লেভানডফস্কি। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে পোলিশ এই মহাতারকাকে দেওয়া হয় আবেগঘন এক বিদায় সংবর্ধনা। কাতালান ক্লাবটির জার্সিতে ঘরের মাঠে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে ডাগআউটে ফেরার সময় অশ্রুসজল লেভানডফস্কি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে দেন, স্টেডিয়ামকে বিদায় জানালেও বার্সেলোনাকে তিনি চিরকাল নিজের হৃদয়ে বহন করবেন।

 

ঘরের মাঠকে দূর্গ বানিয়ে এই ম্যাচে লিগার ইতিহাসে এক অনন্য কীর্তি গড়ল বার্সেলোনা। স্প্যানিশ এই লিগে প্রথম দল হিসেবে এক মৌসুমে ঘরের মাঠের সবকটি ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়ল কাতালান জায়ান্টরা। এর আগে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ ৩৪ ম্যাচের লিগে ঘরের মাঠে সব ম্যাচ জিতলেও, ৩৮ ম্যাচের পুরো মৌসুমে শতভাগ জয়ের রেকর্ড এবারই প্রথম দেখল স্প্যানিশ ফুটবল।

 

মৌসুমের এই ঐতিহাসিক শেষ হোম ম্যাচের পুরো আলোটাই কেড়ে নিয়েছিলেন লেভানডফস্কি। ক্যাম্প ন্যু-তে নিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নামা এই পোলিশ ফরোয়ার্ডের হাতে ছিল অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে যখন তাঁকে তুলে নেওয়া হয়, তখন নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি, চোখ ফেটে জল আসে এই মহাতারকার। ডাগআউটে যাওয়ার পরও বারবার বাইরে বেরিয়ে এসে সমর্থকদের হাত নেড়ে বিদায় জানান।

ম্যাচ শেষে বার্সার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে লেভানডফস্কি বলেন, এই ক্লাবের হয়ে খেলতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। গত চার বছরে আমরা দারুণ কিছু মুহূর্ত পার করেছি। আমি এই স্টেডিয়ামকে বিদায় জানাচ্ছি ঠিকই, তবে বার্সেলোনাকে চিরকাল আমার হৃদয়ে বহন করব। একবার যে বার্সা, সে চিরকালের জন্যই বার্সা।

২০২২ সালে বার্সেলোনা যখন ইতিহাসের অন্যতম চরম আর্থিক সংকট আর লিওনেল মেসির বিদায়ের ধাক্কায় দিকভ্রান্ত, ঠিক তখনই বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে ক্লাবের হাল ধরেছিলেন লেভানডফস্কি। কাতালানদের সেই কঠিনতম সময়ে ত্রাতা হয়ে এসে গত চার বছরে দলকে তিনটি লা লিগাসহ মোট সাতটি ট্রফি জিতিয়েই মাঠ ছাড়ছেন ৩৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।

 

বার্সেলোনার হয়ে ১৯২ ম্যাচে মাঠে নেমে ১৯৯টি গোল করেছেন ‘গোলমেশিন’ লেভানডফস্কি। গড়ে প্রতি ১১৮ মিনিটে একটি করে গোল করার পাশাপাশি তাঁর নেওয়া শটের ২১.২৫ শতাংশই জালে জড়িয়েছে। ক্লাবের হয়ে তাঁর গোলগুলোর মধ্যে লা লিগায় ১৩৩ ম্যাচে ৮২টি, চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩৮ ম্যাচে ২৩টি, কোপা দেল রে-তে ১২ ম্যাচে ৭টি, স্প্যানিশ সুপারকোপায় ৭ ম্যাচে ৬টি এবং ইউরোপা লিগে ২ ম্যাচে ১টি গোল রয়েছে।

 

লেভানডফস্কিকে সম্মান জানাতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সকালেই নিয়েছিলেন রাফিনিয়া, আরাউহো ও পেদ্রিরা। রাফিনিয়া জানান, ‘তাঁর ক্যারিয়ারের এমন একটি মুহূর্তের সঙ্গী হতে পারাটা সত্যিই সম্মানের। আসার পর থেকেই ক্লাবের জন্য তিনি অনেক অবদান রেখেছেন।’

 

লেভানডফস্কির বিদায় ছুঁয়ে গেছে বার্সা ড্রেসিংরুম থেকে ডাগআউটেও। বায়ার্ন মিউনিখের পর বার্সেলোনা—ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় এই পোলিশ স্ট্রাইকারকে খুব কাছ থেকে দেখা কোচ হান্সি ফ্লিকও ম্যাচ শেষে প্রিয় শিষ্যের বিদায়লগ্নে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি, রবার্টের একটা গোল হলে রাতটা হয়তো পুরোপুরি নিখুঁত হতে পারত, তাই বলা যায় রাতটা ছিল প্রায় নিখুঁত। আমি তাঁর সাথে বহু বছর কাজ করেছি এবং সে আমার একজন ভালো বন্ধু। বার্সেলোনা এবং এই ক্লাবের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন এক মুহূর্ত। আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। সে একাধারে একজন অসাধারণ মানুষ এবং বিশ্বমানের খেলোয়াড়। সে আমাদের দুর্দান্ত সব মুহূর্ত, গোল এবং শিরোপা উপহার দিয়েছে। আমরা তাঁকে খুব মিস করব, তবে এটাই জীবন এবং ফুটবলের নিয়ম। আমরা সবাই তাঁকে মিস করব, সে সত্যিই একজন ভালো মানুষ।’

ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ খেললেও বার্সেলোনার জার্সিতে লেভানডফস্কির চূড়ান্ত বিদায় এখনই হচ্ছে না। আগামী শনিবার লা লিগার শেষ ম্যাচে ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে তাদের মাঠে বার্সার হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলতে নামবেন তিনি।

এর আগে মাঝ সপ্তাহে আলাভেসের কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচের একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক। জোয়ান গার্সিয়া, পেদ্রি এবং রাফিনিয়াকে ফিরিয়ে আনা হয় শুরুর একাদশে। লেভানডফস্কির বিদায়ী ম্যাচে বার্সাকে প্রথমে লিড এনে দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়াই। বেতিস গোলকিপার আলভারো ভালিসকে পরাস্ত করে দূরপাল্লার শটে বল জালে জড়ান তিনি।

১-০ ব্যবধানে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর ম্যাচের ৬২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনিয়া। হেক্টর বেলেরিনের এক ভুল পাস ধরে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই উইঙ্গার। তবে এর কিছুক্ষণ পরেই ম্যাচে ফেরে বেতিস। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা ইসকোকে বার্সার ডি-বক্সের ভেতর গাভি ফাউল করলে পেনাল্টি পায় বেতিস। সফল স্পট কিকে ব্যবধান ২-১ করেন ইসকো নিজেই।

 

৭৪ মিনিটে স্বস্তি ফেরান জোয়াও কানসেলো। তাঁর দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শট বেতিস গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ালে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার।