ঢাকা | এপ্রিল ১৩, ২০২৬ - ১০:৩৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পাহাড়ের চূড়ায় সম্প্রীতির মিলনমেলা: নুনছড়ি ‘মাতাই পুখিরী’ তীর্থ মেলার উদ্বোধন

  • আপডেট: Monday, April 13, 2026 - 7:17 pm

 

মহালছড়ি প্রতিনিধি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনমেলা ও বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত বৃহৎ নুনছড়ি মাতাই পুখিরী তীর্থ মেলা ১৪৩৩-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে মহালছড়ি উপজেলার নুনছড়ি এলাকার তীর্থস্থান মাতাই পুখিরীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।
মেলার উদ্বোধন করেন মহালছড়ি জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আল-জাবির আসিফ, পিএসসি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিতলা আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মোঃ আহসান, তীর্থ মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক রাজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মপ্রাণ মানুষ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা ও বর্ণিল বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। পরে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গারোয়া নৃত্যসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শনার্থীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লে. কর্নেল মোঃ আল-জাবির আসিফ বলেন, “সবার উপরে বাংলাদেশ। আমরা একটি বহুসংস্কৃতির দেশে বসবাস করি, যেখানে সকল ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহাবস্থান আমাদের শক্তি।” তিনি এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, তীর্থ মেলা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে এবং তা সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ হয়।
মেলায় আগত তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে করে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকে।
উল্লেখ্য, নুনছড়ি মাতাই পুখিরী তীর্থ মেলা পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। প্রতি বছর এই মেলাকে ঘিরে পাহাড়ি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।