ঢাকা | এপ্রিল ৪, ২০২৬ - ৩:২২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সিজারের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিকে হামলা-ভাঙচুর

  • আপডেট: Saturday, April 4, 2026 - 12:02 pm

জেলা প্রতিনিধি, দিনাজপুর।। দিনাজপুরের বীরগঞ্জে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ক্লিনিকটিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পরে প্রশাসন ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেয়।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বীরগঞ্জ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে।

সিজারিয়ান অপারেশনে মারা যাওয়া ওই প্রসূতি নাম সমেজা খাতুনকে (২৮)। তিনি কাহারোল উপজেলার সরঞ্জা এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। এর আগে আগে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকালে প্রসূতি সমেজা খাতুনকে বীরগঞ্জ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে সমেজা খাতুনের সিজার অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এ সময় অপারেশনের সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে পাঠানো হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মো. বকুল হোসেন এবং অ্যানেসথেশিয়া প্রদানকারী শরিফুল ইসলাম যথাযথ চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হন। তাদের দাবি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ জটিলতা দেখা দিলেও প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

এদিকে ঘটনার পর ক্লিনিকের মালিক বেলাল হোসেনসহ চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা ক্লিনিক বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছে। এ সময় ক্লিনিকে ভর্তি অন্যান্য রোগীদের স্বজনরা বাধ্য হয়ে রোগী সরিয়ে নেন বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে রাত ৮ টার দিকে ক্লিনিকের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দফায় দফায় ক্লিনিকে ভাঙচুর, হট্টগোল, সড়ক অবরোধ এবং আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপংকর বর্মন জানান, পরিস্থিতি পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাওন কুমার সরকার বলেন, সিজার অপারেশনের সময় রোগীর অবস্থার অবনতি হয়ে প্রসূতির মৃত্যু হয়। ক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিক ঘেরাও করলে পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।