ঢাকা | মে ১৮, ২০২৬ - ৭:২০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

হামের প্রাদুর্ভাবের মাঝেই খাগড়াছড়িতে ৫৪ নার্সের একযোগে বদলি, ভেঙে পড়ার শঙ্কায় স্বাস্থ্যসেবা

  • আপডেট: Monday, May 18, 2026 - 6:32 pm

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।

সারা দেশে যখন হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো, জরুরি টিকাদান কর্মসূচিও চলছে জোরেশোরে, ঠিক তখনই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে একযোগে ৫৪ জন নার্সের বদলির ঘটনায় দেখা দিয়েছে তীব্র উদ্বেগ। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, আগে থেকেই জনবল সংকটে থাকা জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবার আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

জানা গেছে, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ৫৪ জন নার্সকে পদায়ন করা হয়। কিন্তু যোগদানের মাত্র সাত মাসের মাথায় চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর তাদের একযোগে বদলির আদেশ জারি করে। পরে ২৬ এপ্রিলের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে এই বদলি প্রক্রিয়া ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। পার্বত্য অঞ্চলে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের বদলির ক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ হয়ে সিভিল সার্জনের সুপারিশ এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক হলেও অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অনেক নার্স সরাসরি অনলাইনে আবেদন করে বদলি নিয়েছেন, আবার কেউ কেউ প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা এটিকে সরকারি বিধিমালার সুস্পষ্ট ব্যত্যয় হিসেবে দেখছেন।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষ। জেলার অনুমোদিত ৩৪১টি নার্স পদের বিপরীতে আগে থেকেই ৬৯টি পদ শূন্য ছিল। নতুন করে আরও ৫৪ জন নার্স চলে গেলে শূন্যপদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১২৩টিতে। শুধু খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালেই ১৩৫টি পদের মধ্যে ২০টি পদ খালি হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট থাকায় পার্বত্য অঞ্চলে প্রসূতি মা, শিশু ও জরুরি রোগীদের সেবার বড় অংশই নির্ভর করে নার্সদের ওপর। এর মধ্যে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রমেও নার্সদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, “নার্সসহ প্রায় সব সেক্টরেই জনবল সংকট রয়েছে। এর মধ্যে একসঙ্গে এতজনের বদলি হলে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।”

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা বলেন, “আগে থেকেই ৬৯টি পদ শূন্য ছিল। এখন আরও ৫৪ জন চলে গেলে মোট শূন্যপদ দাঁড়াবে ১২৩টিতে। সীমিত জনবল দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা সচল রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”

এদিকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এতগুলো পদ খালি রেখে একসঙ্গে এতজন নার্সের বদলি স্বাস্থ্যসেবায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, হামের চলমান প্রাদুর্ভাবের সময় এমন সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার প্রশ্নই তুলছে না, বরং পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবাকেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।