লামায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ইউএনও’র অভিযান, ৫ শ্যালো মেশিন জব্দ
পরিবেশ রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি
মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, লামা (বান্দরবান)।।
লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের পেতেইন্যা ছড়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৬ মে) দুপুর সাড়ে ৩টায় লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৫টি শ্যালো মেশিন জব্দ করা হয়েছে।
এসময় কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জামিল ও তার সঙ্গীয় ফোর্স, স্থানীয় ইউপি সদস্য ওমর ফারুকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অবৈধভাবে পাহাড় কর্তন ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে একই ইউনিয়নে পাহাড় কাটার অপরাধে লোকমান নামের একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, চকরিয়াকেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেট লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে পরিবেশ ধ্বংস করে বালু ও পাথর উত্তোলন, বৃক্ষ উজাড় এবং পাহাড় কর্তনের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি আইন, আদালতের নির্দেশনা এবং প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে এসব পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফাইতং, ফাঁসিয়াখালী, আজিজনগর ও সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের মাটি কাটা, বালু উত্তোলন, কাঠ পাচার এবং অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে পাহাড় ধসের ঝুঁকি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য এবং সংকুচিত হচ্ছে বনভূমি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিভিন্ন সময়ে অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হচ্ছে না। অভিযানের পর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরে আবারও একইভাবে পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড শুরু হয়।
সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় অভিজ্ঞ মহলের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে প্রশাসনের অভিযান স্থায়ী ফলাফল আনতে পারছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের একাংশের মতামত, শুধুমাত্র মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ ধরনের সংঘবদ্ধ পরিবেশ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তারা মনে করেন, নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনার জন্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীর সহায়তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে লামা উপজেলায় অবৈধ ইটভাটা, পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলন ও কাঠ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবেশ ধ্বংসকারী সিন্ডিকেটের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়, বন ও নদী শুধু স্থানীয় জনগণের সম্পদ নয়, এগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। তাদের মতে, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সমন্বিত টিম গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হলে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে।











