রাজস্থলীতে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেসে গেল ৮ গরু, প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি
রাজস্থলী প্রতিনিধি:
রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে আটটি গরু ভেসে গিয়ে মারা গেছে। শনিবার (১২ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার ১ নম্বর ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের মহাজনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিভিন্ন স্থান থেকে গরুগুলোর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আকস্মিক এ ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাজনপাড়া এলাকার কৃষক ক্যাচিপ্রু মারমার ছয়টি এবং দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার রাজস্থলী প্রতিনিধি আজগর এ. ক্যাচিপ্রু মারমার দুটি গরু পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে যায়। প্রতিদিনের মতো গরুগুলো গ্রামের পাশের চারণভূমিতে ঘাস খেতে গেলেও রাতভর ভারী বর্ষণে পাশের খালের পানি হঠাৎ বেড়ে যায়। প্রবল স্রোতে গরুগুলো ভেসে যায়।
সকালে গরুগুলোকে না পেয়ে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিভিন্ন স্থান থেকে আটটি গরুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গবাদিপশু পালনই অনেক পরিবারের প্রধান জীবিকার উৎস। একসঙ্গে এতগুলো গরু হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাজার চৌকিদার মিজান বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের গ্রামের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রতিদিন গরুগুলো খাল পার হয়ে চারণভূমিতে যায় এবং বিকেলে ফিরে আসে। কিন্তু ভোরের পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে গরুগুলো ভেসে গেছে। এমন ঘটনা আগে কখনো দেখিনি।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ক্যাচিপ্রু মারমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছয়টি গরুই ছিল পরিবারের প্রধান সম্পদ। এক মুহূর্তে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে সংসার চালাব জানি না। সরকারের সহযোগিতা চাই।”
অপর ক্ষতিগ্রস্ত আজগর এ. ক্যাচিপ্রু মারমা বলেন, “আমার দুটি গরুও পানির তোড়ে ভেসে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করা গরুগুলো হারিয়ে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।”
১ নম্বর ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাজস্থলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিন্টু বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।”
এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ হাসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাজস্থলীর বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং ভবিষ্যতে দুর্যোগের সময় গবাদিপশু রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।











