বৃদ্ধ বয়সেও সংগ্রামী আইসক্রিম বিক্রেতা তেজেন্দ্র
কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ফেরিঘাট এলাকা। রবিবার (২৪ মে) সকাল ৭টা। পূর্ব আকাশে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়তেই কাঁধে আইসক্রিমের বাক্স নিয়ে পথচলা শুরু করেন ৮০ বছর বয়সী তেজেন্দ্র লাল বিশ্বাস। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও থেমে নেই তাঁর জীবনসংগ্রাম। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে আইসক্রিম বিক্রি করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
প্রতিদিনের মতো এদিনও রাইখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইসক্রিম বিক্রির উদ্দেশ্যে বের হন তেজেন্দ্র লাল। তীব্র গরমে তাঁর আইসক্রিম শিশু-কিশোরসহ পথচারীদের কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।
কথা হলে তেজেন্দ্র লাল বিশ্বাস জানান, তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা গ্রামে। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৬ থেকে ৭ বছর পর থেকে তিনি কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের কারিগর পাড়া, বড়খোলা পাড়া, রাইখালী বাজার, রিফিউজি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং রাঙ্গুনিয়ার পূর্ব কোদালা গ্রামে ঘুরে ঘুরে আইসক্রিম বিক্রি শুরু করেন। সেই থেকে টানা প্রায় ৫০ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “আগে একেকটা বাক্সে ৫০০ থেকে ৭০০টি আইসক্রিম বহন করতে পারতাম। এখন বয়স হয়ে গেছে, তাই ১০০টির বেশি নিতে পারি না। প্রতিটি আইসক্রিম ১০ টাকায় বিক্রি করি। সারাদিনে খরচ বাদ দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লাভ হয়।”
পারিবারিক জীবনের কথাও তুলে ধরেন এই প্রবীণ শ্রমজীবী মানুষটি। তিনি জানান, তাঁর চার মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে এবং ছেলে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন। বর্তমানে তিনি ছেলের বাসা থেকেই প্রতিদিন ভোর ৫টায় রওনা হয়ে চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজারের একটি আইসক্রিম ফ্যাক্টরি থেকে আইসক্রিম সংগ্রহ করে রাইখালী এলাকায় বিক্রির জন্য যান।
তেজেন্দ্র লাল বিশ্বাস বলেন, “আমার বয়স এখন আশি। আগের মতো শক্তি নেই। তবুও আইসক্রিম বিক্রি করা এখন আমার পেশার পাশাপাশি নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
স্থানীয়দের কাছেও তিনি পরিচিত এক মুখ। রাইখালী ইউনিয়নের বড়খোলা পাড়ার বাসিন্দা ক্যসিমং বলেন, “আমি তাঁকে প্রায় ৪০ বছর ধরে এই এলাকায় আইসক্রিম বিক্রি করতে দেখছি।”
একই এলাকার মো. খোরশেদ আলম ও মো. আলম বলেন, “আমরাও প্রায় ২৫ বছর ধরে তাঁকে নিয়মিত আইসক্রিম বিক্রি করতে দেখছি। বয়স হলেও তিনি এখনও পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন, যা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”











