ঢাকা | মে ১, ২০২৬ - ১:৪১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

নতুন বইয়ের বিষয়বস্তু পরিবর্তনে ৩০০ বিশেষজ্ঞ, কর্মশালা শুরু ৪ মে

  • আপডেট: Friday, May 1, 2026 - 12:26 pm

ডেস্ক রিপোর্ট।। ঘোষণা থাকলেও নতুন শিক্ষাক্রমের কাজ এখনি শুরু হচ্ছে না। ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের পাঠ্যপুুস্তক পরিমার্জনের কাজে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ইতোমধ্যে বইয়ের বিষয়বস্তুতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং তিন শতাধিক বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞকে যুক্ত করেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকার বাইরে চার দিনের একটি কর্মশালাও আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে পাঠ্যবইয়ের পরিমার্জন নিয়ে কাজ হবে। কর্মশালার শেষ দিনে শিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায় ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের আওতায় আসছে মাধ্যমিকের সব শ্রেণির মোট ৬০১টি বই। এর সাথে যুক্ত হচ্ছে তিনটি নতুন বই। এই নতুন বইয়ের পান্ডুলিপিও প্রস্তুত করবে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা।

নতুন বইয়ের তালিকায় রয়েছে চতুর্থ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির লার্নিং উইথ হ্যাপীনেস এবং শারীরিক শিক্ষা বই। একই সাথে কারিগরি বোর্ডের পাঠ্যপুস্তকেও আসছে নতুন নতুন এবং যুগোপযোগী বিষয়বস্তু।

সূত্র জানায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তাদের অন্যান্য বইয়ের সাথে নতুন বিষয়ে লেখা আরো একটি বই পাবে। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং ‘সোস্যাল কালচার’ বিষয়ে নতুন একটি পাঠ্যবই দেয়া হবে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকের এই দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্য। একই সাথে শারীরিক শিক্ষা বিষয়েও নতুন নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে। সব শ্রেণির জন্য ক্রীড়া শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শারীরিক শিক্ষা পাঠ্যবইয়ের পান্ডুলিপিও এই কর্মশালায় প্রস্তুত করা হবে। অন্য দিকে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত আইসিটি বিষয়ের বইটির আগাগোড়া পরিবর্তন করা হচ্ছে। সেখানে বিশ্ব প্রযুক্তির সাথে তালমিলিয়ে এআই এবং রোবোটিক অংশসহ অনেক নতুন বিষয়ই যুক্ত করা হচ্ছে।

এনসিটিবির একটি সূত্র জানায়, আগামী ৪, ৫, ৬ এবং ৭ মে ঢাকার বাইরে বগুড়ায় চার দিনের এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে আবাসিকভাবে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে কর্মশালার সামগ্রিক বিষয়াধিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। কর্মশালার শেষ দিনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন নিজে সেখানে উপস্থিত থেকে পাঠ্যপুস্তকের পরিমার্জনের বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, বিএনপি সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় শিক্ষার সাথে খেলাধুলা এবং বিনোদনকে (নাচ, গান, সঙ্গীত, বাদ্যবাজনা) যুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। সব শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

একই সাথে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস এবং সোস্যাল কালচার বিষয়ে নতুন দু’টি বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এই বিষয় দু’টি পরের ক্লাসে অর্থাৎ সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্যান্য বিষয়ে শিক্ষাক্রমে বেশ কিছু পরিমার্জন আনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অবশ্য শুরু থেকেই একাধিক সভায় শিক্ষামন্ত্রী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সব শ্রেণির পাঠ্যবই পরিমার্জন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এখন সেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত এনসিটিবিতে তিনটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসব সভায় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।