আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য: সিলেটবাসীর প্রতি সারওয়ার
ডেস্ক রিপোর্ট।। সিলেট থেকে বিদায় নিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। এ উপলক্ষে জেলাবাসীর উদ্দেশে এক বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সারওয়ার আলম লেখেন, ‘বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।’
রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু সই করা এক আদেশে সারওয়ার আলমকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বদলির আদেশে সুস্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে সম্প্রতি সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণ (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতে সাহসী উদ্যোগ নেন ডিসি সারওয়ার। মাজারের তিনটি ডেগ সিলগালা ও নতুন দানবাক্স বসান তিনি। সেই সঙ্গে ডেগের ওপর সিসি ক্যামেরাও বসান।
নজির স্থাপন করেই সিলেট ছাড়ছেন ডিসি সারওয়ার
বছরের পর বছর ধরে মাজারের দান খয়রাতের টাকার ভাগবাটোয়ার করে আসছিল মাজারের নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু পরিবার। দীর্ঘদিনের রেওয়াজ ভেঙে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ফেরাতে সাহসী উদ্যোগ নেন এই সরকারি কর্মকর্তা। তার এই উদ্যোগকে সিলেটের সাধারণ মানুষ স্বাগত জানালেও একটি পক্ষ তার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এ অবস্থার মধ্যে তাকে প্রত্যাহার আদেশ জারি করা হলো।
গত বছরের ২১ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছিলেন সারওয়ার আলম। ২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন তিনি।
হঠাৎ ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি। এর আগে তিনি বঞ্চিত হলে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয়টিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’র শাস্তি দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে তাকে শাস্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।











