ঢাকা | মে ৪, ২০২৬ - ১:১৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

অবসর গ্রহণের পর কারো উপর নির্ভরশীল হওয়া নরকের চেয়েও কঠিন: মাধবন

  • আপডেট: Monday, May 4, 2026 - 11:53 am

বিনোদন ডেস্ক।। ‘থ্রি ইডিয়টস’খ্যাত অভিনেতা আর. মাধবন। ৫৫ বছর বয়সেও এই অভিনেতা অভিনয়ে সরব। ‘লেগ্যাসি’ শিরোনামে তার অভিনীত একটি ওয়েব সিরিজ আসছে। এ নিয়ে কথা বলতে বরুণ দুয়ার পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি।

এ আলাপচারিতায় বার্ধক্য, জীবনের পরিকল্পনা, দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে প্রাসঙ্গিক থাকার চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন আর. মাধবন। তার মতে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির কারণে মানুষ আগের চেয়ে এখন বেশি দিন বাঁচছে। কিন্তু অবসর জীবনের পর যে কঠিন সময় আসে, তার জন্য খুব কম মানুষই প্রস্তুত।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির কথা বলতে গিয়ে আর. মাধবন বলেন, “এখন দীর্ঘায়ু হওয়া সাধারণ ব্যাপার হয়ে উঠছে। আপনি যদি সুস্থ থাকেন, ঠিকভাবে জীবনযাপন করেন, তাহলে ৯০ বছর পর্যন্ত বাঁচা এখন আর বড় বিষয় নয়। ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচাও সম্ভব হচ্ছে। তবে এর সঙ্গে বার্ধক্যের চ্যালেঞ্জও বেড়েছে।”

সবচেয়ে বড় ভয়ের কথা উল্লেখ করে আর. মাধবন বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় ভয় হলো—কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া; সেটা শারীরিক বা আর্থিকভাবে। এই অবস্থা আমার কাছে নরকের চেয়েও কঠিন। আমি আমার মর্যাদা, আত্মসম্মান নিয়ে আপস করতে পারি না। আমি সবসময় সমাজে অবদান রাখতে চাই।”

জীবনের ধাপগুলো ব্যাখ্যা করেছেন আর. মাধবন। এই তারকা অভিনেতা বলেন, “প্রথম ৩০ বছর পড়াশোনা ও পরিকল্পনায় কেটে যায়। পরের ৩০ বছর ক্যারিয়ার এবং পরিবার গড়ে তোলার জন্য। কিন্তু ৬০ বছরের পর যেন এক ধরনের স্থবিরতা আসে। আর এই ৬০ বছরের পরের ৩০ বছরের জন্য কারো কোনো পরিকল্পনা থাকে না।”

খানিকটা ব্যাখ্যা করে আর. মাধবন বলেন, “স্বাস্থ্যগত দিক থেকে ৬০ বছর বয়স এখন যেন ৪৫; আমি এখনো সক্রিয় থাকতে পারি। কিন্তু আর্থিকভাবে ৪৫ বছর বয়স এখন যেন ৩০। আপনি এ বয়সেও আর্থিকভাবে স্থিতিশীল নন।”

অবসর গ্রহণের পরের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে আর. মাধবন বলেন, “অবসর গ্রহণের পর হঠাৎ একজন মানুষ তার ক্ষমতা ও পরিচয় হারিয়ে ফেলেন। গতকাল পর্যন্ত আপনি ‘স্যার’ ছিলেন, আজ আপনি সাধারণ একজন নাগরিক। এই পরিবর্তনের ফলে যে মানসিক প্রভাব পড়ে, মানুষ তা অবমূল্যায়ন করেন।”