ঢাকা | জুলাই ১৬, ২০২৬ - ৪:৩৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

লাশ নিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আরো দুইজন নিহত

  • আপডেট: Thursday, July 16, 2026 - 1:21 pm

পাবনা প্রতিনিধি।। পাবনায় লাশ নিয়ে ফেরার পথে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সচালকসহ দুইজন নিহত হয়েছে। একইসঙ্গে এ দুর্ঘটনায় আরো পাঁচজন আহত হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোর ৬টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা সলিম প্রামাণিকের স্ত্রী বুলু খাতুন (৫৭) এবং পাবনা শহরের উত্তর শালগাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা জামাল শেখের ছেলে ও অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ (২৮)। বুলু খাতুন অ্যাম্বুলেন্সে থাকা শিশুর মরদেহের স্বজন ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিশু কেয়া খাতুনের মরদেহ নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে আতাইকুলার সড়াডাঙ্গী আলিম মডেল মাদ্রাসার সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী নয়, বরং ঢাকা থেকে পাবনাগামী পাবনা এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর অ্যাম্বুলেন্সটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ এবং মরদেহের সঙ্গে থাকা শিশুটির নানী বুলু খাতুন মারা যান। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স ও বাসে থাকা আরও কয়েকজন যাত্রী আহত হন।

খবর পেয়ে মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।

মাধপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি শিশুর মরদেহ নিয়ে তার স্বজনরা সাঁথিয়ার দিকে ফিরছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেস বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সচালকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, নিহত দুই ব্যক্তির মরদেহ এবং অ্যাম্বুলেন্সে থাকা শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।