রাঙ্গামাটিতে জেলা পর্যায়ে ইমামদের সম্মেলন: সমাজ গঠনে ইমামদের বহুমুখী নেতৃত্বের আহ্বান
আহমদ বিলাল খান।।
সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, নৈতিকতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইমামদের আরও সক্রিয় ও বহুমুখী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের ‘ইমাম সম্মেলন-২০২৬’।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের মিলনায়তনে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে রাঙ্গামাটিতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামরা অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মুহাম্মদ ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, একজন ইমাম শুধু মসজিদে নামাজ পরিচালনাকারী নন; তিনি একটি মহল্লা ও সমাজের নৈতিক অভিভাবক, পথপ্রদর্শক ও সচেতনতার নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি। সমাজ গঠনে ইমামদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইমামদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, পশুপালন, পরিবার পরিকল্পনা, সামাজিক সচেতনতা ও মানবকল্যাণমূলক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কল্যাণে নেতৃত্ব দিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ ইমামদের প্রতি গভীর আস্থা ও সম্মান পোষণ করেন। তাই একজন ইমাম চাইলে কৃষিতে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার, গবাদিপশু পালন, স্বাস্থ্য সচেতনতা, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য, মাদকবিরোধী প্রচার এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ইমাম শুধু নামাজ পড়ান না; তিনি একজন শিক্ষক, পরামর্শদাতা, সমাজসংস্কারক ও মানবকল্যাণে নিবেদিত একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি। ইসলামের দৃষ্টিতে একজন আদর্শ ইমাম সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। সেই অর্থে ইমাম একজন হাকিমের মতো সমাজকে জ্ঞান দিয়ে পথ দেখান, আবার একজন ডাক্তারের মতো মানুষের নৈতিক ও সামাজিক অসুস্থতা দূর করার কাজও করেন।
তিনি আরও বলেন, মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, এটি সামাজিক সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেরও অন্যতম কেন্দ্র। তাই সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কুসংস্কার দূরীকরণ, মাদক ও উগ্রবাদ প্রতিরোধ এবং তরুণদের সঠিক পথে পরিচালনায় ইমামদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইমামদের অংশগ্রহণ সময়ের দাবি। তারা তৃণমূল পর্যায়ে ইমামদের সামাজিক নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।











