ঢাকা | জুন ১৫, ২০২৬ - ৭:৫৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বাউফলে দূরপাল্লার বাসের কৃত্রিম সংকট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

  • আপডেট: Monday, June 15, 2026 - 4:25 pm

মো. রিয়াজ (বাউফল) প্রতিনিধি।। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় দূরপাল্লার বাসের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ঢাকা-বাউফল রোডের শত শত যাত্রী। তাদের দাবি মালিকপক্ষ বাসের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং ভাড়া বৃদ্ধি করায় এই সংকট দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে মালিক পক্ষের দাবি লোকসানের কারণে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া সবগুলো বাস এক ব্যানারের অধীনে চলার জন্য কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। কিছু দিন পরে আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাউফল-ঢাকা রুটে দীর্ঘদিন ধরে মুন পরিবহন, অন্তরা পরিবহন, চেয়ারম্যান পরিবহন, ইসলাম পরিবহন, সাকুরা পরিবহন, বাউফল ট্রাভেলস ও কিংস পরিবহনসহ মোট সাতটি ব্যানারের বাস চলাচল করত। এসব পরিবহনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বাস যাত্রী পরিবহন করত।

অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি মুন পরিবহনের মালিক রাজিব এবং চেয়ারম্যান পরিবহনের মালিক জালাল একত্রিত হয়ে “যৌথ দশমিনা এক্সপ্রেস” নামে নতুন একটি ব্যানারে কার্যক্রম শুরু করেছে। ফলে বাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠার অভিযোগ রয়েছে।

যাত্রীদের দাবি, সিন্ডিকেটের কারণে বাসের সংখ্যা কমিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে যাত্রীদের ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বাসে সিট না পেয়ে অনেকেই টুলে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। আবার অনেকে বাউফলে টিকিট না পেয়ে বরিশাল গিয়ে ঢাকা অভিমুখী বাসে উঠছেন। এছাড়া পূর্বে যেখানে ভাড়া ছিল ৫০০ টাকা, সেখানে বর্তমানে ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

যাত্রী উজ্জ্বল হোসেন বলেছেন, ‘সকাল ৯টায় বগা ফেরিঘাট এলাকায় এসে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। এখন দুপুর ১২টা বাজলেও কোনো বাস আসেনি। আগে সহজেই বাস পাওয়া যেত, এখন পাওয়া যাচ্ছে না। আগে শান্তিতে যাতায়াত করতাম, এখন চরম ভোগান্তি হচ্ছে। সিট কভারের টিকিটও ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

আরেক যাত্রী রবিউল বলেছেন, ‘দাঁড়িয়ে গেলেও ৬০০ টাকা নেয়, বসে গেলেও ৬০০ টাকা নেয়। যেভাবেই যাই, ভাড়ার কোনো কমতি নেই।’

ঢাকাগামী যাত্রী কামরুল হাসান বলেছেন, ‘আমরা সকাল ৯টায় বগা ফেরিঘাটে এসেছি। কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। বলা হচ্ছে গাড়ি কম। গাড়ির সংখ্যা বাড়ানো হলে যাত্রীদের সুবিধা হতো। দুপুর ১২টা পর্যন্ত বসে আছি, কিন্তু সিট পাওয়া যায়নি। ভাড়াও আগের চেয়ে বেশি।’

দশমিনা এক্সপ্রেসের বগা কাউন্টারের কর্মচারী মামুন বলেছেন, বাস মালিকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সবগুলো বাস এক ব্যানারের অধীনে পরিচালনা করবেন এবং ট্রিপ সংখ্যা কমিয়ে দেবেন।ফলে আগে যে পরিমাণ বাস চলাচল করত, এখন তার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর কারণ সঠিকভাবে জানি না, তবে মালিকদের দাবি তারা লোকসানের কারণে এ ব্যবস্থা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে পরিবহন মালিক মো. রেজাউল করিম বলছেন, আমরা নতুন একটি নিয়ম চালু করেছি। পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে কিছুটা সময় লাগবে। আগে প্রায় ৭০টি বাস চলাচল করত, বর্তমানে ৩৮টি বাস চলাচল করছে।