ঢাকা | জুলাই ১২, ২০২৬ - ২:২৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বর্ষণে উঠে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পিচঢালাই

  • আপডেট: Sunday, July 12, 2026 - 11:33 am

মিরসরাই প্রতিনিধি।

মিরসরাইয়ে টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে কিছু এলাকার মানুষ এখনো পানিবন্দি। গতকাল শনিবারও বাড়ি–ঘরে পানি ছিল। এতে মানবেতর জীবন যাপন করেছে অনেক মানুষ। সরকারি–বেসরকারিভাবে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় একেবারে নগণ্য। টানা বর্ষণে অনেক স্থান যেমন প্লাবিত হচ্ছে তেমনি ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে গর্ত। অন্যান্য সড়কেও একই অবস্থা দেখা গেছে। তবে বৃষ্টি থামলে কিছু কিছু স্থানে সৃষ্টি হওয়া বড় গর্ততে ইট সুরকি বালি দিয়ে প্রাথমিক প্রলেপ দেওয়া কাজও করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের।

 

মিরসরাই উপজেলার বসতবাড়ি, দোকানপাট ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বেশি কষ্টে রয়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কর্মহীন থাকায় পরিবার নিয়ে অনাহারে–অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে এবং তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পানিতে ডুবে রয়েছে আউশ রোপা। ঢলের পানিতে ভেসে গেছে আমন বীজতলা। সরেজমিন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা, ইছাখালী এলাকা, কাটাছরা, দুর্গাপুর, হাইতকান্দি, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের কিছু এলাকার বাড়ি–ঘরে পানি দেখা গেছে। তলিয়ে গেছে একাধিক রাস্তাঘাট। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবারে রান্না করা সম্ভব হয়নি। আউশ রোপাসহ নানা ধরনের শাক–সবজি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নের কৃষক আশরাফ উদ্দিন ( ৪৫) বলেন, ‘আউশের রোপা এখনো পানির নিচে। ১০ শতক জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি করেছিলাম, পাহাড়ি ঢলের স্রোতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি কমলে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে।’ উপজেলার দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার বোরহান উদ্দিন, অভিযোগ করেন, চিটাগাং ফিডমিল কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনের একটি কালভার্ট সংকুচিত করে দেওয়ার কারণে আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এখন গ্রামে কোমর পর্যন্ত পানি। তাদের বারবার বলার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নিজামপুর এলাকার আমজাদ হোসেন বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলে আমাদের এলাকার রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মূলত ছরা দখল হয়ে যাওয়ার কারণে পাহাড়ি ঢল আটকে রাস্তা–ঘাট ভেঙে পানি মানুষের জমিতে ঢুকে যাচ্ছে।’

 

মিরসরাইয়ে পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত জনজীবন, বিদ্যুৎহীন অনেক এলাকা। এদিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ কারণে এখানকার পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঢালু এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

 

এই বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, টানা বৃষ্টিতে অনেক জমির আউশ রোপা পানির নিচে রয়েছে। নষ্ট হয়েছে আমনের বীজতলাও। অনেক কৃষক আমন বীজ তৈরি করেও বৃষ্টির জন্য জমিতে ফেলতে পারছেন না। শাকসবজিরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–৩ এর মিরসরাই জোনাল অফিসের ডিজিএম আদনান আহমেদ চৌধুরী বলেন, উপজেলার আবুতোরাব খেয়ারহাট, ঘড়িমার্কেট এলাকায় বড় গাছ পড়ে খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারের মাধ্যমে নতুন খুঁটি এনে কাজ করাতে সময় লাগবে। ওই এলাকার গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানান তিনি।

 

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘টানা বর্ষণের কারণে উপজেলার কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হওয়ায় পানি নামতে সময় লাগছে। জলাবদ্ধতার শিকার মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাস করা লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে।