না ফেরার দেশে আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরান
স্পোর্টস ডেস্ক।। আফগানিস্তান ক্রিকেটের সাবেক তারকা বাঁহাতি পেসার শাপুর জাদরান আর নেই। দীর্ঘদিন বিরল ও জটিল রোগে ভোগার পর ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে আফগানিস্তানসহ বিশ্ব ক্রিকেটে।
দীর্ঘদিন ধরে শাপুর জাদরান হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ) নামে বিরল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। রোগটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় করে তোলে, যার ফলে অতিরিক্ত প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে শরীরের একাধিক অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গত বছরের অক্টোবরে প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে আফগানিস্তানের চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের দিল্লিতে নেওয়া হয়। চিকিৎসার শুরুতে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও মাত্র ২০ দিনের মাথায় আবারও অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর থেকে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সব চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান আফগানিস্তানের এই সাবেক গতি তারকা।
শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। এক বিবৃতিতে বোর্ড জানায়, গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে আমরা আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি।
আফগানিস্তান ক্রিকেটের উত্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল শাপুর জাদরানের। তার গতি, সুইং এবং আক্রমণাত্মক বোলিং দীর্ঘ সময় আফগান পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এবং ২০১১ সালে ওয়ানডেতে অভিষেক হওয়া এই বাঁহাতি পেসার জাতীয় দলের হয়ে ৪৪টি ওয়ানডেতে ৪৩টি এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টিতে ৩৭টি উইকেট শিকার করেন।
তিনি ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১০, ২০১২ ও ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তান দলের সদস্য ছিলেন। এছাড়া আইসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তার পারফরম্যান্স আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শাপুর জাদরানের বিদায়ে আফগানিস্তান ক্রিকেট হারাল তাদের স্বর্ণালী প্রজন্মের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে। ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে তার অবদান ও স্মৃতি চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।











