নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বন্ধের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে দরিদ্র নগরবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নগরাঞ্চলের অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে লাখো নগরবাসী মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কনফারেন্স হলে কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর (ক্যাপ) ও কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড বাংলাদেশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদে চিকিৎসাকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হলেও স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও নগর স্বাস্থ্যসেবা মূলধারায় আসেনি। বর্তমানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও ২১টি পৌরসভায় ৪৫টি নগর মাতৃসদন এবং ১৬৭টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। ১৫টি এনজিওর প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন।
বক্তারা জানান, গত এক বছরে এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫ লাখ প্রসবপূর্ব সেবা, ১২ লাখ শিশুর টিকাদান এবং লাল কার্ডের মাধ্যমে ১ কোটির বেশি দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।
তারা আরও বলেন, গত ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর আগে ২২ এপ্রিল মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনো নতুন চুক্তি বা অর্থায়নের ব্যবস্থা না হওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মানবিক কারণে এনজিওগুলো সাময়িকভাবে সেবা চালিয়ে গেলেও জুলাইয়ের পর আর এ ব্যয়ভার বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।
বক্তাদের মতে, পরিকল্পিত রূপান্তর ও অর্থায়ন নিশ্চিত না করে হঠাৎ সেবা বন্ধ হলে জাতীয় স্বাস্থ্য সংকট সৃষ্টি হতে পারে। এতে নগরে বসবাসকারী প্রায় ৪০ শতাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একই সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, মাতৃমৃত্যুর হার বৃদ্ধি এবং প্রায় সাড়ে তিন হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর চাকরি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান এনজিওগুলোর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন, বিনামূল্যে লাল কার্ড সুবিধা পুনর্বহাল, পরিকল্পিতভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর, দক্ষ জনবল সংরক্ষণ এবং শতভাগ নগরবাসীর স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন, জনগণের স্বাস্থ্য আন্দোলন বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মো. আমিনুর রসুল, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি ও সারাবাংলা ডটনেটের সিটি এডিটর রফিকুল ইসলাম আজাদ, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ, বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের খায়রুজ্জামান কামাল এবং ডেইলি স্টেটের বার্তা সম্পাদক মিহির বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্যাপের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার রেবেকা সান ইয়াত। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিওএসসি ইয়ুথ গ্রুপের ফোকাল পারসন হেনা আক্তার রুপা। সভাপতিত্ব করেন বিওএসসি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হোসনে আরা বেগম রাফেজা। এ সময় বস্তিবাসীদের পক্ষে বক্তব্য দেন মোছাম্মৎ ছালমাসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা।











