ঢাকা | জুলাই ১০, ২০২৬ - ৮:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

টানা বর্ষণ ও লুসাইর ঢলে ডুবছে বরকল, ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি পানির নিচে

  • আপডেট: Friday, July 10, 2026 - 6:04 pm

বরকল (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

টানা ছয় দিনের বর্ষণ ও মিজোরামের লুসাইয়ের পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির দুর্গম উপজেলা বরকলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ভারী বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। এতে উপজেলার অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তিন শতাধিক ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।

উপজেলার ভূষণছড়া, বড়কুড়াদিয়া, এরাবুনিয়া, কলাবুনিয়া, বামল্যান্ড ও কুকিছড়া এলাকায় লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছে। পায়ে হাঁটা রাস্তার একাধিক জায়গায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার চলাচলের একমাত্র অবলম্বন বাইকসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও বাড়ির আঙিনা, কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অনেক এলাকায় ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় মানুষ কার্যত ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের বাসিন্দারা। নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। জেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।

ভূষণছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ময়না বেগম বলেন, মাত্র কয়েকদিন আগেও যেখানে গরু-ছাগল চরত, সেখানে এখন নৌকা চালিয়ে চলাচল করছে গ্রামের ছেলেরা। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বাড়ির চারপাশে পানি জমে আছে। অনেকের ঘরে পানি ঢুকে গেছে। চুলা ডুবে যাওয়ায় রান্না করা যাচ্ছে না। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।

ভূষণছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ঘরবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় লোকজন ব্যাপক অসুবিধায় রয়েছে। এই মুহূর্তে সরকারি সহযোগিতা খুব প্রয়োজন।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। অনেক জায়গায় শুকনো খাবার ও সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।