ঢাকা | এপ্রিল ১৫, ২০২৬ - ১:১০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

গুরুতর অসুস্থ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা

  • আপডেট: Tuesday, April 14, 2026 - 3:04 pm

মিরসরাই প্রতিনিধি।।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তাঁর পরিবার। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) নিউজনাউকে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের গুরুতর অসুস্থতার খবর জানায় তাঁর পরিবার। তারা দেশবাসীর কাছে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া চেয়েছেন। এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবারের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে এবং ডাক্তারদের পরামর্শে তাঁকে ব্যাংককের বুমরুনগ্রাদ আন্তর্জাতিক হাসপাতালে (Bumrungrad International Hospital) নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালের শ্বাসযন্ত্রের রোগ বা বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের নিবিড় চিকিৎসা চলছে।

৮৩ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের দ্রুত আরোগ্য কামনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন অগ্রগামী সৈনিক। এরপর চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে ৭ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ বিভিন্ন সময়ে সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এও প্রেসিডিয়াম সদস্য কার্যত রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই। ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর তাকে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখে ইউনূস সরকার। প্রায় ১৩ থেকে ১৪টি মামলায় জামিন হওয়ার পরও নতুন নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের গুরুতর শারীরিক সমস্যা থাকায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ৩-৪ বার দফা সরকারের কাছে তাঁর মুক্তির জন্য আর্জি জানিয়েও কোনো ফল মেলেনি! পরে কারা হাসপাতালেই তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যান, মুমূর্ষু অসুস্থ অবস্থায় তাঁর জামিন হয়। এরপর থেকেই তিনি আরও দুর্বল হয়ে পড়েন। সম্প্রতি ছোট ভাইয়ের মৃত্যুতে তিনি ভেঙে পড়েন। অসুস্থ শরীর নিয়ে ভাইয়ের জানাজায়ও উপস্থিত হন।

তাঁর বড় সন্তান ব্যবসায়ী সাবেদুর রহমান সুমু জানান, বর্তমানে আব্বাকে হাসপাতালের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসকদের একটি বোর্ড গঠন করে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও গত ৩১ মার্চ আব্বা মিরসরাইয়ে গিয়ে তাঁর ছোট ভাই মোয়াজ্জেম হোসেন চেনু মিয়ার জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। এর পর থেকেই তাঁর শারীরিক দুর্বলতা বাড়তে থাকে। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তাঁর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।