ঢাকা | জুন ৬, ২০২৬ - ৫:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কচুরিপানায় ছেয়ে আছে পুরো অংশ, মিরসরাইয়ে বেহাল দশা মহামায়া লেক

  • আপডেট: Saturday, June 6, 2026 - 1:17 pm

মিরসরাই প্রতিনিধি।।

মিরসরাইয়ে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহামায়া লেকটি পুকুরে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে কচুরিপানার (টেপাপানা) আগ্রাসনে লেকটির সৌন্দর্য ম্লান হয়ে দর্শনার্থীশূন্য হতে চলেছে। লেকের সম্মুখ অংশে দেখা গেছে কিছু কচুরিপানা দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে সামান্য অংশে নৌকা চালানোর চেষ্টা করে দর্শনার্থীদের কিছুটা আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তাতে খুশি নন কোনো আগন্তুক। কারণ পুরো লেকই আবর্জনাময় রূপ ধারণ করেছে। ইজারাদার জানিয়েছেন, কোটি টাকা লোকসান হওয়ায় আগামীবার আর তিনি ইজারা নেবেন না।

জানা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার পর সৃষ্টি হয় মিরসরাইয়ের সারি সারি পাহাড়ের মধ্যে নীল জলরাশির দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মহামায়া। এ লেক সৃষ্টির পর ১৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। লেকের স্বচ্ছ পানি, বনবাদাড়, ঝরনা, অভয়ারণ্য, পাহাড়ি পাথরময় অঞ্চলসহ নানান সৌন্দর্যে ঘেরা এ এলাকা দেখে মুগ্ধ হয়ে দর্শনার্থীরা বারবার ছুটে আসেন। লেকের কোনো কোনো জোনের দুপাশের সুউচ্চ পাহাড়, মাঝখান দিয়ে পানির ফোয়ারা পেরিয়ে ঝরনা ইত্যাদি বৈচিত্র্যময় এলাকা সবাইকেই মুগ্ধ করে।

কিন্তু গত প্রায় দেড় বছর ধরে এখানে শুরু হয় কচুরিপানার আগ্রাসন। পর্যায়ক্রমে পুরো লেক দখল করে ফেলে এ কচুরিপানা। এতে করে দর্শনার্থীদের প্রধানতম বিনোদন ও লেকের উপার্জনের প্রধান মাধ্যম লেকে নৌকা নিয়ে ঘোরা কমে যেতে থাকে। লেকে ঢুকেই দর্শনার্থীরা সারি সারি পাহাড়ের নিচে নীল জলরাশি দেখার বদলে দেখতে পাচ্ছেন কচুরিপানায় ভরা পুরো জলাধার। এতে হতাশ সবাই।

বিগত বছরের ঈদগুলোতে এখানে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটত। কিন্তু গত ঈদের ছুটির দিনগুলোসহ বিভিন্ন ছুটির দিনে প্রায় দর্শকশূন্য দেখা গেছে পুরো লেক এলাকা। এবারের ঈদের আনন্দঘন সময় হাতেগোনা কিছু দর্শনার্থী দেখা গেছে।

সম্প্রতি কুমিল্লা থেকে আসা দর্শনার্থী কর্মজীবী ইমন ভূঞা বলেন, ‘আমরা জানতাম না লেকটা এভাবে কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। জানলে আসতাম না। কয়েক বছর আগে এখানে এসে নৌকায় করে ঝরনা দেখাসহ অনেক আনন্দ করেছি। তাই এবার কয়েকজন বন্ধুসহ ঘুরতে এসেছিলাম।’

চট্টগ্রাম থেকে আসা শিক্ষক অরিন্দম চক্রবর্তীও একই কথা বললেন। তিনি বলেন, ‘পরিবার নিয়ে এসে ভুল করেছি। এখন গুলিয়াখালী ঘুরে চলে যাব।’

এ বিষয়ে করেরহাট রেঞ্জের দায়িত্বরত চট্টগ্রাম উত্তর বন সংরক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, ‘এ কচুরিপানা এতটাই ভয়ংকর যে, গত বছর আমরা ঠিকাদারসহ সমন্বয় করে নিজেরা প্রায় ১০ লাখ টাকা বাজেট করে পরিষ্কার অভিযান শুরু করি। তবে একপর্যায়ে ঠিকাদার অর্ধেকের বেশি পরিষ্কার করে অর্ধেক টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। কিন্তু এগুলো আবার পূর্বের রূপে চলে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি চট্টগ্রামের বন সংরক্ষক মিহির কুমার লেক পরিদর্শন করেছেন। আমরা ধারণা করছি, এ লেক পরিষ্কার করতে অন্তত কোটি টাকা লাগতে পারে। কারণ একটি ছোট্ট টেপাপানা যদি লেকের কোথাও থাকে, তা থেকে পুরো লেকে ছড়িয়ে পড়তে অল্প কিছুদিনই লাগে।’

এ বিষয়ে লেকের ইজারাদার শোয়েব শাহরিয়ার বলেন, ‘আমরা দর্শনার্থীদের জন্য ভ্রাম্যমাণ বাউল শিল্পীসহ নতুন নতুন নানান বিনোদনের ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নিয়েছি। দর্শনার্থীদের জন্য বৈচিত্র্যময় ও পরিবেশবান্ধব নৌকার ব্যবস্থা করেছি, কিন্তু ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ইজারা নেওয়ার পর এ জুন পেরুলে ১ কোটি ২০ লাখ টাকাই লোকসান হচ্ছে হিসাবের খাতায়। তাই আগামীবার আমরা আর ইজারা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কচুরিপানা পরিষ্কার করতে আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে ৬ লাখ টাকা খরচ করেছি, তাতেও কিছুই হয়নি। এখন সামান্য অংশজুড়ে টেপাপানা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখায় সামান্য অংশে নৌকা চালাতে পারছেন দর্শনার্থীরা। তবে দর্শনার্থীরা এমন পরিবেশ বিপর্যয়ে হতাশ।’

লেক এলাকার দায়িত্বরত বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, ‘আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও ইজারাদারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এলাকা ভিজিট করেছেন। আশা করছি, কিছু একটা সমাধান হবে।’