সরকারি প্রাইমারি স্কুলের খাবার খেয়ে অন্তত ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি।। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পৌর এলাকার শংকরবাটি ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি প্রাথমিক ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বুধবার দুপুরে আগে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ওইদিনও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাউরুটি, দুধ, কলা ও ডিম বিতরণ করা হয়। তবে খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে বমি বমি ভাব, পেটব্যথা ও চোখে জ্বালাপোড়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা জানায়, গত কয়েকদিন ধরেই তাদের নিম্নমানের ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছিল। বুধবার সেই খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ করেই প্রায় ২০ জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে ২-৩ জন বিদ্যালয়ে ফিরে এলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি বা চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেছেন।
অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, নিম্নমানের খাবার সরবরাহের কারণে শিশুদের এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত মানসম্মত ও নিরাপদ খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার জানান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গাক’ দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নমানের ও দুর্গন্ধযুক্ত ডিম ও পাউরুটি সরবরাহ করে আসছিল। বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বুধবার ওই নিম্নমানের খাবার খাওয়ার পর ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে কয়েকজন ফিরে এলেও বাকিদের পরিবার নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বমি, পেটব্যথাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গাক’-এর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যাদের অসুস্থতা দেখা দিয়েছে, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, খাবারের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্কতা জোরদার করা হবে।










