ঢাকা | মে ২, ২০২৬ - ৭:১৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাঙামাটিতে পিসিসিপি’র লিডারশিপ ট্রেনিং অনুষ্ঠিত: পাহাড়ে বৈষম্য নিরসনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক

  • আপডেট: Saturday, May 2, 2026 - 5:38 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাঙামাটি প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আজ (২ মে) শনিবার দুপুরে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে এক ‘লিডারশিপ ট্রেনিং’ বা নেতৃত্ব বিকাশ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাঙামাটি জেলার ১০টি উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন।

পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মো. হাবীব আজম।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও প্রশিক্ষকবৃন্দ

নেতৃত্বের গুণাবলি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে বিশেষ বক্তব্য প্রদান করেন: পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ রাজু, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামাল উদ্দিন, বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. নূর হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তাদের মূল বক্তব্য ও উদ্বেগের বিষয়সমূহ

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি ও বাঙালিদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আলোচনা করেন:

জনতাত্ত্বিক বৈষম্য:

বক্তারা উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যার ৫২.০৬ শতাংশ বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘকাল ধরে রাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাঙালিরা। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পর থেকে একটি বিশেষ গোষ্ঠী সব ধরনের সুবিধা ভোগ করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিরা পিছিয়ে পড়ছে।

শিক্ষা ও চাকরিতে কোটা বৈষম্য:

১৯৮৪ সাল থেকে উচ্চশিক্ষা ও চাকরিতে উপজাতিদের জন্য বিশেষ কোটা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বর্তমানে বছরে ৩২৫ জন উপজাতি শিক্ষার্থী বিশেষ সুবিধায় উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পেলেও, একই অঞ্চলের অনগ্রসর বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কোটা নেই।

বৃত্তি প্রদানে অসমতা:

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, ৫২ শতাংশ বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্য মাত্র ২৩ শতাংশ বৃত্তি বরাদ্দ থাকে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

নিরাপত্তা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র:

বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফ-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাহাড়ে হত্যা, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সেনাসদস্যদের ওপর হামলার মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

পিসিসিপি’র লক্ষ্য ও আহ্বান

বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালিরা বর্তমানে ‘তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক’-এ পরিণত হয়েছে। এই বঞ্চনা ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন:

“পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) একটি দেশপ্রেমিক ছাত্র সংগঠন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর ন্যায্য অধিকার এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাহাড়ের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই আন্দোলনের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে।”

পরিশেষে, জনসংখ্যার অনুপাতে সকল ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে এবং ট্রেনিং এ অংশগ্রহণকারী সকলকে সনদপত্র প্রদান করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।