ঢাকা | জুন ৭, ২০২৬ - ১১:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মহালছড়িতে দুই মাস ধরে নেই স্থায়ী ইউএনও, প্রশাসনিক স্থবিরতায় চরম ভোগান্তিতে জনগণ

  • আপডেট: Sunday, June 7, 2026 - 9:03 pm

মহালছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলায় দীর্ঘ দুই মাস ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদটি শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্বে পরিচালিত হচ্ছে উপজেলার প্রশাসন। এতে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা, ধীরগতির হয়ে পড়েছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।

জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে মহালছড়ি উপজেলার তৎকালীন ইউএনও মো. আবু রায়হান কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় বদলি হওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। এরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পার্শ্ববর্তী গুইমারা উপজেলার ইউএনও মিসকাতুল তামান্নাকে মহালছড়ির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি মূলত প্রয়োজনীয় রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সপ্তাহে মাত্র দু-একদিন কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে মহালছড়িতে আসতে পারায় অধিকাংশ সময়ই উপজেলা প্রশাসন কার্যত স্থায়ী নেতৃত্বহীন অবস্থায় রয়েছে।

এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে এসে অনেক সেবাগ্রহীতা প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর, অনুমোদন বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না।

বিশেষ করে জাতীয়তা সনদ ও বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র প্রদান, সরকারি অনুদান বিতরণ, জরুরি প্রশাসনিক অনুমোদন, আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জটিলতা ও বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবক জানান, “ইউএনও একটি উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রধান সমন্বয়কারী। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার পক্ষে নিজের কর্মস্থলের পাশাপাশি মহালছড়ির মতো দুর্গম পাহাড়ি উপজেলার সার্বিক কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন। ফলে প্রশাসনে সমন্বয়হীনতা ও শূন্যতা তৈরি হয়েছে।”

এদিকে স্থায়ী ইউএনও না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নিয়মিত তদারকির অভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে ফাইল অনুমোদনে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নতুন প্রকল্প ও বরাদ্দের কাজও আটকে রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পাহাড়ি এই উপজেলার প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জনগণের ভোগান্তি দূর করতে দ্রুত একজন স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে মহালছড়ি উপজেলায় একজন পূর্ণকালীন ও স্থায়ী ইউএনও নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।