ঢাকা | মে ১৫, ২০২৬ - ১:১৬ অপরাহ্ন

বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি সরকারি কর্মচারীদের

  • আপডেট: Friday, May 15, 2026 - 11:48 am

নিজস্ব প্রতিবেদক।। বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশসহ আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ।  একইসঙ্গে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমন্বয়ক মো. লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ১১-২০ ফোরামের সমন্বয়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।

 

লিখিত বক্তব্যে মো. লুৎফর রহমান বলেন, বিগত ১১ বছর ঘরে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। এ সময়ের মধ্যে সম্মিলিত মুদ্রগীতি ১০৮ শতাংশ। এ প্রেক্ষাপটে ২০১৫ সালের বেতন দিয়ে ২০২৬ সালে কোনভাবে ভাবেই কর্মচারীরা তাদের সংসারের বহন করতে পারছেন না বিধায় ৯ম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

মো. ওয়ারেছ আলী আরো বলেন, বিগত আওয়মী সরকার ৯ম পে-স্কেলের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেননি, অর্ন্তবর্তী সরকার পে-কমিশন গঠনের মালামের কর্মচারীদেরকে আশা দিয়েও গেজেট প্রকাশ না করে এবং ৩৯ হাজার কোটি বরাদ্দ রেখে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বাস্তবায়ন করবে মর্মে দায়-সারা কথা বলেছেন।

পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী এশতেহারে পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা বললেও তার দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ অর্থমন্ত্রী কিংবা তার মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেননি। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের এহেন অসহায়ত্বের বিষয় বিবেচনায় মানবিক কারণে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।

দাবির বিষয় বিবেচনায় ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে:

১. ১:৪ এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন-স্কেল ৩৫০০০/-টাকায় ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের নিমিত্ত আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছর বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখা ও সরকার কর্তৃক গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশকৃত ‘বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল’ এর দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে ১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ হতে বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত ৩টি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পূণর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনঃবহাল করতে হবে।

৩. ব্লক পোষ্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে, এছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দিতে হবে।

৪. সকল স্বায়তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচ্যুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্রাচুয়িটি/আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশ এর স্থলে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ ও পেনশন গ্রাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

৫. উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের প্রকল্পের চাকুরীকাল গণনা করে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করার অবকাশ নেই মর্মে নং-অম/অবি (বাস্ত-৪)/বিবিধ-২০ (উঃস্কেঃ/০৭/৪৭, তারিখ-২৪-০৩-২০০৮খ্রি. যোগে অর্থ মন্ত্রণালয় হতে জারীকৃত বৈষম্যমূলক আদেশের বিপরীতে দায়েরকৃত মামলা নম্বর ১৩৭/২০১৫ এর রায় অনুযায়ী উক্ত আদেশ বাতিল করতে হবে।

৬. বর্তমান বাজার মূল্যের সাথে সংগতি, জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যমান ভাতাদি পুনঃনির্ধারণ ও সামরিক/আধাসামরিক বহিনীর ন্যয় (১১-২০ গ্রেডের) কর্মচারীদের রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে।

৭. প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ও পদ বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সচিবালয়ের ন্যয় সকল সরকারি, আধাসরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এম এ হান্নান, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের সমন্বয়ক ও চেয়ারম্যান মো. সেলিম মিয়া, বাংলাদেশ ১৭-২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী সমিতির সমন্বয়ক ও সভাপতি মো. রফিকুল আলম, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সমন্বয়ক ও সাধারণ সম্পাদক খায়ের আহমেদ মজুমদার,

মাউশি কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন, বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতির সমন্বয়ক ও সদস্য-সচিব মো. মাহবুব হক তালুকদার, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সমন্বয়ক ও সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি, সরকারি কর্মচারী উন্নয়ন পরিষদের সমন্বয়ক ও সভাপতি জিয়াটিল হক,

পৌর কর্মচারী ফেডারেশনের সমন্বয়ক ও সদস্য-সচিব সাবেরা সুলতানা, বাংলাদেশ সরকারি গাড়ি চালক সমিতির সমন্বয়ক ও সদস্য-সচিব হুমায়ুন কবির, পরমাণু শক্তি কমিশনের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান উজ্জ্বল, বিজি প্রেস কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. মুসা মিয়া মন্ডল, বিবিএস কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মৃধা, সম্মিলিত পরিষদের সমন্বয়ক ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফেরদৌস আহমেদ,

টিএফপিএ সমিতির মো. জামাল উদ্দিন টিটু, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের খন্দকার মহিউদ্দিন ও মো. সিদ্দিকুর রহমান, সমাজসেবা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধি মো. আতাউর রহমান, ১৭-২০ কর্মচারী সমিতির শাহজাহান সিরাজ সম্রাট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুহাম্মদ সরোয়ার মোর্শেদ ও মো. রুহুল আমিন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মো. রফিকুল ইসলাম মামুন, মো. আলমগীর হোসেন ও মো. রিয়াজসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা