ঢাকা | মে ৩, ২০২৬ - ৮:২৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বেকারত্ব কাটিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন, মানিকছড়িতে ভ্রাম্যমাণ বাসে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ

  • আপডেট: Sunday, May 3, 2026 - 6:51 pm

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:-

কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে টেকাব-২য় পর্যায় শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৪০ জন শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে ‘কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং প্রশিক্ষণ’ কোর্সের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

রবিবার (৩ মে) সকাল ১০টা থেকে একটি ঝকঝকে এসি বাসে শুরু হয় এই কম্পিউটার প্রশিক্ষণ। উপজেলা পরিষদ চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বাসে শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীরা নিজেদের জীবনের গতি বাড়ানোর নতুন দিক খুঁজে পাচ্ছেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২ মাসব্যাপী ‘কম্পিউটার অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর খাগড়াছড়ির উপপরিচালক হাফিজা আইরিন। ইউএনও তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ আশ্রাফ উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হান, সমবায় কর্মকর্তা সংগীতা ভৌমিক, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাকির হোসেন, প্রশিক্ষক মো. শরিফ উল কাশেম, সৌরভ রায়, প্রশিক্ষণার্থী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত এই বাসটি মূলত ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখানে ২ মাসব্যাপী ৪টি শিফটে মোট ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী কম্পিউটার শেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

জানা গেছে, ‘টেকনোলজি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার অন হুইলস ফর আন্ডারপ্রিভিলেজড রুরাল ইয়ং পিপল অব বাংলাদেশ (টেকাব)’ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য আশীর্বাদ। বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ পেয়ে তারা নিজেদের দক্ষতা বাড়িয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করে বেকারত্ব দূর করার সুযোগ পাবেন।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ আশ্রাফ উদ্দিন বলেন, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বেকার শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে আবেদন নিয়ে তাদের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ২০ জন মেয়ে ও ২০ জন ছেলেকে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা একটি সনদ পাবেন, যা ৬ মাসের ডিপ্লোমা কোর্সের সমমান।

এই সনদ ব্যবহার করে সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে আবেদন করার পাশাপাশি ব্যাংক থেকে অল্প সুদে ঋণও নিতে পারবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ যুবসমাজের বেকার সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে বলে তিনি আশা করেন।

মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ বলেন, গ্রামের দরিদ্র ও মেধাবী যুবক-যুবতীদের বিনামূল্যে মানসম্মত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।