ঢাকায় কোরবানি উপলক্ষে অস্থায়ী ২৪ পশুর হাটের প্রস্তুতি, অনিশ্চয়তায় আফতাবনগর
নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রতিবছরই ঈদুল আজহায় ঢাকার পশুর হাটে বিরাজ করে উৎসবের আবহ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খামারি আর রাজধানীর ক্রেতাদের মেলবন্ধনে মুখর হয় এই হাটগুলো। এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। দুই সিটি করপোরেশন এরই মধ্যে ইজারা প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে রাজধানীজুড়ে ২৪টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
দুই সিটির অধীনে ১২টি করে মোট ২৪টি অস্থায়ী হাটের পাশাপাশি গাবতলী ও সারুলিয়ার স্থায়ী হাটেও চলবে কোরবানির পশু বিক্রি।
সীমানা জটিলতা ও আবাসিক এলাকার পরিবেশ এবং জনদুর্ভোগ আশঙ্কায় আফতাবনগরে হাট বসবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দরপত্র আহবান করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি। গত বছর স্থানীয়দের বাধা ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে আফতাবনগরে পশুর হাট বসানোর ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ বা ২৮ মে দেশে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্ভাব্য এই সময় বিবেচনায় নিয়েই হাট বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন এসব হাটে পশু কেনাবেচা করতে পারবেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
ডিএনসিসির ১২টি অস্থায়ী পশুর হাট : গত ৯ এপ্রিল ১২টি হাটের নাম ও প্রস্তাবিত মূল্য উল্লেখ করে দরপত্র আহবান করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
হাটগুলো হলো খিলক্ষেত বাজার সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা (প্রস্তাবিত সরকারি মূল্য এক কোটি ৫১ লাখ টাকা), মিরপুর সেকশন-৬-এর ইষ্টার্ণ হাউজিংয়ের খালি জায়গা (এক কোটি ৭৬ লাখ ৪৭ হাজার ৮৫৮ টাকা), মিরপুর কালশী বালুর মাঠের (১৬ বিঘা) খালি জায়গা (৩০ লাখ টাকা), ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি জায়গা (এক কোটি ১৩ লাখ পাঁচ হাজার ৯০০ টাকা),
মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন খালি জায়গা (১৪ লাখ টাকা), ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাজীপাড়ার ইকরা মাদরাসার পাশের খালি জায়গা (১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা), মোহাম্মদপুরের বছিলার ৪০ ফুট রাস্তা সংলগ্ন খালি জায়গা (এক কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার ৪৫৬ টাকা), উত্তরা দিয়াবাড়ীর ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউবাজার এলাকার খালি জায়গা (আট কোটি ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৪ টাকা), ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদরাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা এভিনিউ সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা স্লুইসগেট পর্যন্ত খালি জায়গা (৮৮ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ টাকা),
৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচকুড়া বাজার সংলগ্ন রহমাননগর আবাসিক এলাকার খালি জায়গা (১৫ লাখ পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা), খিলক্ষেতের মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ার খালি জায়গা (৯৩ লাখ ২২ হাজার ৩৩৪ টাকা) ও ভাটারা সুতিতোলা খাল সংলগ্ন খালি জায়গা (তিন কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৭ টাকা)।
ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগ সূত্র জানায়, ওই ১২টি হাটের ইজারায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ডিএনসিসির নগর ভবনসহ সব আঞ্চলিক অফিস, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে দরপত্র কিনতে হবে। আগামী ২৬ এপ্রিল প্রথম পর্যায়ে দরপত্র বিক্রির শেষ দিন। ২৭ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে তা ডিএনসিসির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনসহ সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দিতে হবে। ওই দিনই দুপুর আড়াইটায় নগর ভবনে দরদাতা বা তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দরপত্রের বাক্স খোলা হবে।
দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২টি হাটে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে যে বেশি দর দেবে, তাকে হাটের ইজারা দেওয়া হবে। তখন তাদের কাছ থেকে ইজারা মূল্যের ১০ শতাংশ পরিচ্ছন্নতা ফিও রাখা হবে। দরপত্রের বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি ছুটি বা অনিবার্য কারণে নির্ধারিত দিনে দরপত্র গ্রহণ ও খোলা সম্ভব না হলে পরবর্তী কর্মদিবসে একই সময়ে দরপত্র গ্রহণ ও খোলা হবে।
ডিএসসিসির ১২টি অস্থায়ী পশুর হাট : কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে ১২ স্থানে অস্থায়ী হাট বসানোর পরিকল্পনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরই মধ্যে এসব হাট ইজারায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরপত্র আহবান করা হয়েছে।
ডিএসসিসির হাটের মধ্যে রয়েছে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশে নদীর পারে খালি জায়গা (প্রস্তাবিত সরকারি মূল্য দুই কোটি ৭১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৭ টাকা), উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গা (এক কোটি ৮২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৪ টাকা), রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গা (৬৭ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৭ টাকা), আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা (৫৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭ টাকা), শ্যামপুর কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ডের খালি জায়গা (৬৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা), আফতাবনগর (ইষ্টার্ণ হাউজিং) ব্লক-ই, এফ, জি, এইচ, সেকশন-১ ও ২ এর খালি জায়গা (এক কোটি ৪০ লাখ ৬০ হাজার টাকা), শিকদার মেডিক্যাল সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গা (চার কোটি ২০ লাখ টাকা)।
এ ছাড়া কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পানির পাম্প পর্যন্ত রাস্তার অব্যবহৃত জায়গা (তিন কোটি ৬৫ লাখ টাকা), দয়াগঞ্জ লেভেলক্রসিং থেকে জুরাইন লেভেলক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার খালি জায়গা (দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা), মোস্তমাঝি মোড় সংলগ্ন গ্রিন বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি জায়গা (৭০ লাখ টাকা), ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের খালি জায়গা (এক কোটি ৪০ লাখ টাকা), গোলাপবাগের আউটফল স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গা (৫৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৪ টাকা)।
এই অস্থায়ী ১২টি হাট ছাড়াও সারুলিয়া স্থায়ী হাটের (এক কোটি ১৭ লাখ চার হাজার ৬৬৭ টাকা) দরপত্র আহবান করা হয়েছে গত ১৬ এপ্রিল। প্রথম ধাপের দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ চলতি মাসের ২৯ তারিখ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান বলেন, ‘দরপত্র আহবান করা হয়েছে। দরপত্র বাক্স খোলার পরে জানা যাবে কারা জমা দিয়েছে।’
এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জানান, অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দরপত্র আহবান করা হয়েছে। নাগরিকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করা এসব হাট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিন ধাপে এটি চূড়ান্ত করা হবে।











