ঢাকা | মে ১০, ২০২৬ - ২:৫৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কলকাতায় আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন

  • আপডেট: Sunday, May 10, 2026 - 2:16 pm

কামাল পারভেজ ::

আগে থেকেই আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বলা হতো ভারত। বাংলাদেশে অবস্থিত কার্যালয় গুলিস্তান কিংবা ধানমন্ডি ৩২-কে বলা হয় মুখ্যপাত্র কার্যালয়। এবার হয়তো দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবেই পূরণ হতে পারে কলকাতায় আওয়ামীলীগের কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল ও ২৯ মে দুই দফায় অনুষ্ঠিত হলো। তৃণমূল কংগ্রেস (মমতা)-কে পিছনে ফেলে ইতিহাসের পাতায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০৬-২০৭ আসনে জয়লাভ করে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার শাসনের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস ৮০ আসন পেয়ে ১৫ বছরের দায়িত্ব থাকার পর মমতাকে বিরোধী দল হিসেবে বিধানসভা ছাড়তে হলো। তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা সিপিআইএমকে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসে। ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১৫ বছর তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গ শাসন করে।

১৯৪৭-এর পর এই প্রথম বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে নিজের অবস্থান তৈরি করে বিধানসভার দায়িত্ব নিলো। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে নিশ্চিত করে, তার হাতেই ক্ষমতা প্রদান করে। নির্বাচনে জয়লাভের পর শুভেন্দু অধিকারী প্রথমেই বলেছিলো, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখনো শেখ হাসিনা, তার হাতেই ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে। তার এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়। ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় আওয়ামীলীগকে নিয়ে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এক বিপ্লবের রোষানলে পড়লে আওয়ামীলীগ সরকারের পতন ঘটে। শেখ হাসিনাসহ তার ৩০০ শত এমপি-মন্ত্রী সকলেই পালিয়ে যায়। বেশিরভাগ আওয়ামী নেতা-কর্মী ভারতেই আশ্রয় নেয়। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে প্রায় ১ লাখের মতো আওয়ামী নেতা-কর্মী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছে। যেসব নেতা-কর্মী ভারতে পালিয়ে যায়, তার মধ্যে ৯০% অবৈধভাবে পাড়ি দেয়। এখনো অবৈধভাবেই সেখানে অবস্থান করছে এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আওয়ামীলীগ তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পশ্চিমবঙ্গে অস্থায়ীভাবে কার্যালয় নিয়েছে। তাদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা এখনো বাংলাদেশে থাকা বেশ কিছু নেতা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রামে মিছিল-মিটিংয়ের জন্য খরচাপাতি যোগান দেয় সরকারের ভেতরে গুপ্তি মেরে থাকা বেশ কিছু আমলা।