আল্লাহ যেন ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করেন: মিশরের কোচ হোসাম হাসান
স্পোর্টস ডেস্ক।। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পা রেখেছে মিশর। দলের এই ঐতিহাসিক জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, আল্লাহ যেন ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করেন এবং তাদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। এই জয় আমি মিশরের জনগণের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি উৎসর্গ করছি। ম্যাচ শেষে মিশর ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে মাঠে উদযাপন করেন তিনি।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতা ছিল। পরে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় মিশর।
টাইব্রেকারে মিশরের হয়ে জয়সূচক শটটি নেন হোসাম আবদেলমাগুইদ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যারি সাউতার ও লুকাস হেরিংটনের শট প্রতিহত হওয়ায় বিদায় নিতে হয় তাদের। শেষ ষোলোতে মিশরের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে ইমাম আশুরের হেডে এগিয়ে যায় মিশর। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটে মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। এরপর আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, আল্লাহ যেন ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করেন এবং তাদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। এই জয় আমি মিশরের জনগণের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি উৎসর্গ করছি।
ম্যাচ শেষে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে মাঠে নামেন হাসান। পুরো দলকে নিয়ে সিজদার মাধ্যমে ঐতিহাসিক জয় উদ্যাপন করেন তিনি। মিশরের এই জয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অনেক ফিলিস্তিনি। বড় পর্দায় অস্ট্রেলিয়া-মিশর ম্যাচ উপভোগ করছেন ফিলিস্তিনিরা।
গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ এক্সে লেখেন, এবারই প্রথম এত আগ্রহ নিয়ে বিশ্বকাপ দেখছি। মিশরের জয় আমাকে আনন্দ দিয়েছে, তবে সবচেয়ে আবেগের মুহূর্ত ছিল হাজারো মানুষকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘর ও তাঁবু থেকে বেরিয়ে একসঙ্গে খেলা দেখতে দেখা। কিছু সময়ের জন্য হলেও সবাই যেন যুদ্ধের বাস্তবতা ভুলে স্বাভাবিক জীবনের অনুভূতি ফিরে পেয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, গাজার ধ্বংসস্তূপের পাশে অস্থায়ী পর্দায় খেলা দেখছেন স্থানীয়রা। অনেক শিশুর মুখে আঁকা ছিল মিশরের পতাকা। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর উল্লাসে ফেটে পড়েন দর্শকেরা।











