ঢাকা | জুলাই ৩, ২০২৬ - ৫:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আল্লামা সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণকারী পুলিশের এএসপি গ্রেপ্তার

  • আপডেট: Friday, July 3, 2026 - 3:11 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক।। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েব আমির ও দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার্স আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে এসে ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণ করে ভারতে পাচার করে দেওয়ার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল রাতে ফজলুর রহমান নামে পুলিশের একজন এএসপিকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে তাকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা এখন প্রকাশ করা হচ্ছে না।’

এ বিষয়ে ডিবি পাবলিক রিলেশনে এন্ড মিডিয়া বিভাগের এডিসি এম নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘গতকাল রাতে ফজলুর রহমান নামে একজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কোর্টের গেট থেকে সুখরঞ্জন বালিকে উঠিয়ে নিয়ে যায় সাদা পোশাকধারী পুলিশ। পরে তাকে ভারতের একটি কারাগারে পাঁচ বছর কাটাতে হয়।

২০২৪ সালে ৫ আগস্ট দেশে পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ ৩২ জনকে আসামি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেন সুখরঞ্জন বালী। মামলাটি তদন্তধীন রয়েছে।

অভিযোগে সুখরঞ্জন বলেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ার জন্য প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয় তাকে। ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর সাক্ষ্য দিতে এলে সাদা পোশাকধারী পুলিশ মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। গুম করে রাখা হয় ২ মাস ১৭ দিন। পরে সীমান্ত পার করে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে। ভারতে ৫ বছর জেলে ছিলেন তিনি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অপরাধে জাড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৩ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পরে আপিলে সেই রায় পরিবর্তন হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তবে এই মামলাকে কেন্দ্র করে সাক্ষী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি তখন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ২০২১ সালে ১৩ নভেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।