কক্সবাজারে কাঠের রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, একই পরিবারের ৮ জনসহ নিহত ১০
কক্সবাজার প্রতিনিধি।। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাঁশ ও কাঠের তৈরি পুরো রিসোর্টটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।
নিহতদের মধ্যে আটজনই একই পরিবারের সদস্য এবং তারা সবাই পর্যটক। এ ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন দগ্ধ ও আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ‘টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামের ওই স্থাপনায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
রিসোর্টের ইনচার্জ মোহাম্মদ সুমন ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাতটার দিকে রিসোর্টের রান্নাঘর থেকে প্রথম একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। আগুন লাগার সাথে সাথে তা নেভানোর চেষ্টা করা হলেও মুহূর্তের মধ্যে রিসোর্টের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) এবং গ্যাস সিলিন্ডারগুলো বিস্ফোরিত হয়। এতে পুরো কাঠের কাঠামোটিতে আগুন তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) মাহমুদ সোহেল এবং পুলিশ সূত্রে নিহত ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তারা হলেন, ঢাকার বনশ্রী এলাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩)। খিলগাঁও এলাকার লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭)। চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও শিশু ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।
পুলিশ জানায়, তিন তলা বিশিষ্ট এই রিসোর্টটিতে মোট ৯টি কক্ষ ছিল। শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকরা চেকআউট করে চলে গেলেও বাকি ৬টি কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে ৫-৬ জন সকালে বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম জানান, সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে উখিয়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়। উদ্ধারকর্মীরা ভষ্মীভূত রিসোর্টের ভেতর থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করেন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়েছেন। ঘটনার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।











