ঢাকা | অক্টোবর ১৭, ২০২৬ - ৫:১৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পার্বত্য চট্টগ্রাম

জনবল সংকটে খাসখালী রেঞ্জ ও ৩ বিট অফিস, দায়িত্বে এক বন কর্মকর্তা

মোঃ ওমর ফারুক।।

 

জনবল সংকটের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ঝুম নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের আওতাধীন খাসখালী রেঞ্জ অফিস ও এর অধীন তিনটি বিট অফিস দীর্ঘদিন ধরে একজন বন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা, বনাঞ্চল তদারকি এবং সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বনাঞ্চলে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

 

খাসখালী রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২ সালে তিনটি বিট অফিস নিয়ে খাসখালী রেঞ্জ অফিস প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৬২ সালের সরকারি গেজেটের ৪ ধারা অনুযায়ী এ রেঞ্জের আওতায় প্রায় ১২ হাজার ১৫ একর পিএফ (প্রটেকশন ফরেস্ট) ভূমি রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৯ সালে বন আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী মোট ৬ হাজার ৩২৯ একর ভূমিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল (রিজার্ভ ফরেস্ট) ঘোষণা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এর আওতায় রয়েছে ৯৫ নম্বর খাসখালী মৌজা ও ৯৫(ক) নম্বর বেতবুনিয়া মৌজা।

 

রেঞ্জের অধীন তিনটি বিটের মধ্যে খাসখালী সদর বিটে ৩ হাজার ৯০০ দশমিক ৮৯৭৪ একর, কলমপতি বিটে ৩ হাজার ৬৯৪ একর এবং পোমরা বিটে ৩ হাজার ২৩৭ একর জমি ও পাহাড় রয়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, তিনটি বিট অফিস ও রেঞ্জ অফিসে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল অত্যন্ত কম। প্রতিটি বিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল জলিলকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনটি বিটের কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হচ্ছে।

 

খাসখালী সদর বিট অফিসে সরকারি কর্মচারী রয়েছেন মাত্র দুজন। তাঁদের একজন বাগানমালি এবং অন্যজন লস্কর। এ ছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দুজন বোটম্যান কর্মরত আছেন। তবে বিট কর্মকর্তা ও ফরেস্ট গার্ডের কোনো পদেই বর্তমানে কর্মী নেই। অথচ বনাঞ্চল তদারকির জন্য এ বিটে তিন থেকে চারজন ফরেস্ট গার্ড প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

কলমপতি বিট অফিসেও নেই কোনো বিট কর্মকর্তা। এখানে আগে দুজন ফরেস্ট গার্ড কর্মরত ছিলেন। তাঁদের একজন বদলি হওয়ায় বর্তমানে একজন রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া একজন বাগানমালি, একজন বোটম্যান এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তিনজন কর্মী রয়েছেন।

 

অন্যদিকে পোমরা বিট অফিসেও বিট কর্মকর্তার পদ শূন্য। এখানে আগে একজন ফরেস্ট গার্ড কর্মরত থাকলেও তিনি বদলি হয়েছেন। বর্তমানে এ বিটে দুজন আউটসোর্সিং কর্মী বোটম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বিটটির নিয়মিত তদারকি ও বনসম্পদ রক্ষার দায়িত্বও জনবলসংকটের মধ্যে পড়েছে।

 

খাসখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল জলিল বলেন, “বিষয়টি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন। একজন রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে রেঞ্জ অফিসের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনটি বিটের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিছুটা হিমশিম খেতে হয়। তিনটি বিটেই জনবল সংকট বড় সমস্যা।”

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জনবল সংকটের সুযোগে খাসখালী রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন পিএফ ভূমি ইতিপূর্বে জবরদখল হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে সরকারি রিজার্ভ ফরেস্ট ও পিএফ ভূমি থেকে মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয়দের মতে, পাহাড় ও বনভূমি রক্ষা, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং বনসম্পদ পাচার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। অথচ প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা ও ফরেস্ট গার্ড না থাকায় বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

এ অবস্থায় খাসখালী রেঞ্জ অফিস ও এর অধীন তিনটি বিট অফিসে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, শূন্য পদগুলো পূরণ করে পর্যাপ্ত বন কর্মকর্তা ও ফরেস্ট গার্ড নিয়োগ করা হলে সরকারি বনভূমি রক্ষা, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং বনসম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

সম্পর্কিত