ঢাকা | জুলাই ১৮, ২০২৬ - ৩:০৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি, নিখোঁজের দুইদিন পরে লাশ মিলল পাটখেতে

  • আপডেট: Saturday, July 18, 2026 - 12:44 pm

ডেস্ক রিপোর্ট।। ফরিদপুর সদরে বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর এক ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, তাকে অপহরণের পর মুক্তিপণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাতটার দিকে সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের রোকমান খার ডাঙ্গী গ্রামের একটি পাটখেত থেকে ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকিরের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইউসুফ ফকির ওই গ্রামের সেকেন ফকিরের ছেলে। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। পেশায় তিনি পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও পুলিশের বরাতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউসুফ ফকিরের শরীর কিছুটা খারাপ লাগছিল। তিনি স্ত্রীকে জানান, মমিনখার হাট বাজারে গিয়ে একটি ডিসপেনসারিতে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাবেন কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। বাজারের কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে একটি ইজিবাইকে করে বাড়ির সামনে নামেন। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ইউসুফের শ্বশুর আজিজ খান বলেন, যে ইজিবাইকে করে তিনি বাড়িতে ফিরেছিলেন, সেই চালক জানিয়েছেন, বাড়ির সামনেই তাকে নামিয়ে দেন। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েকবার ইউসুফের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। রাত নয়টার পর থেকে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইউসুফের ভাতিজা সাইফুল ফকির ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আজিজ খান আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে প্রথমে ইউসুফের মুঠোফোন থেকেই তার মেয়ের নম্বরে কল আসে। ফোনে অপহরণকারীরা ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা দিলে ইউসুফকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে।

চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলী মদ্দীন ফকির বলেন, আজ ভোর ছয়টার দিকে কয়েকজন কৃষক পাট কাটতে গিয়ে ইউসুফের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরের একটি পাটখেতে তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ দেখতে পান। তার মুখ দিয়ে কীটনাশকের বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া বের হচ্ছিল। মরদেহের পাশে একটি কীটনাশকের বোতলও পড়ে ছিল।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে খুব শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।