ঢাকা | জুলাই ১৭, ২০২৬ - ২:৫৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বেড়েছে মাছ ডিম সবজির দাম, নাভিশ্বাস ক্রেতাদের 

  • আপডেট: Friday, July 17, 2026 - 12:40 pm

ডেস্ক রিপোর্ট।। বৃষ্টি ও বন্যার অযুহাতে হু হু করে বাড়ছে মাছ, ডিম ও সবজির দামে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে দুই-আড়াই কেজি ওজনের এক একটি রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো কিছুদিন আগেও। একই মাছ এখন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। তাদের দাবি, টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মাছের সরবরাহে।

শুধু রুই নয়, একই অবস্থা তেলাপিয়া-পাঙাশ থেকে শুরু করে প্রায় সব মাছের দামে। সরবরাহ কমায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এসব মাছের দাম কেজিপ্রতি অন্তত ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে মাছের বাজারে এসে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর সিপাহীবাগ তালতলা ও খিলগাঁও কাঁচাবাজার ঘুরে মাছের দামের এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্র দেখা গেছে।

​ব্যবসায়ীরাদের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে গেছে। ফলে পাইকারি আড়তগুলোতেই মাছের আমদানি কম।

খিলগাঁও বাজারের পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে মোকামগুলোতেই মাছ কম উঠছে। আড়তে মাল না থাকলে আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়। খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়াটাই স্বাভাবিক।

তবে ক্রেতারা মনে করছেন, বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়েছে। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে মাছের এই বাড়তি দাম তাদের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।

তালতলা বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী আনিসুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম এমনিতেই বাড়তি। এখন বৃষ্টির দোহাই দিয়ে মাছের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হলো। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

​​বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি ও বড় আকারের মাছের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ​চাষের রুই ও কাতলার মতো মাছ গত সপ্তাহে যেগুলো ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছিল, আজ তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।

​নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ভরসা হিসেবে পরিচিত তেলাপিয়া ও পাঙাশের দামও বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

​চাষের চিংড়ি প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, যা গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা বেশি। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। অন্যদিকে, বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় এক কেজির ইলিশের জন্য গুনতে হচ্ছে ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকা।

সবজির দামে বড় পরিবর্তন
টানা বৃষ্টির প্রভাবে তৈরি হওয়া বন্যা পরিস্থিতির কারণে কদিন ধরেই বাড়ছিল সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে এই দাম অসহনীয় হয়ে উঠেছে। প্রতি কেজি সবজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

বাজার ঘুরে জানা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বেগুনের দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। যা এখন মান ও প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। ঝিঙা, চিচিংগা ও ধুন্দলের দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। এ তিনটি সবজি কিনতে হচ্ছে এখন অন্তত ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। যে করলার দাম ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, তা এখন ৯০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া বরবটির দামও বেড়ে ১০০ টাকায় উঠেছে।

অন্যদিকে, ১২০ টাকার কাঁচামরিচের দাম উঠেছে ২০০ টাকা কেজি। ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পুঁইশাকের আটির দাম এখন ৫০ টাকায় উঠেছে।

 

বাজারে তুলনামূলক সবচেয়ে কম দামের সবজির মধ্যে এখন পেঁপে, ঢ্যাঁড়স ও পটোল কেনা যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।

মুরগির পর ডিমের দামও বাড়তি
শুধু মাছ কিংবা সবজিই নয়, বেশ কিছুদিন ধরে স্থিতিশীল থাকা ফার্মের মুরগির ডিমের দামও এখন বেশ চড়া। ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হওয়া ফার্মের ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যখন বাজারে সবজির দাম চড়া থাকে তখন ভোক্তারা ডিমের ওপর নির্ভর করে। এ কারণে চাহিদা বেড়ে যায়। চাহিদা বাড়লে দামও বাড়ে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে বেড়ে আছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। যা আগে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দরে পাওয়া যেতো। বাজারে এখন প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় দরে।