সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও তিনবারের এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন, জানাজায় মানুষের ঢল
চন্দনাইশ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টায় চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর শেষ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মরহুমের মা-বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত আবু ছাহাত চৌধুরী-মরিয়ম বেগম মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল মাওলানা ইয়াসিন।
নামাজে জানাজায় চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। জানাজার আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
এসময় এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী ওমর ফারুক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
জানাজা শেষে মাদ্রাসা-সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
নজরুল ইসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি সক্রিয় ক্ষমতার বাইরে চলে যান।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামে তাঁর দুটি জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। চন্দনাইশের জানাজাটি ছিল তাঁর শেষ জানাজা।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সিনিয়র সদস্য ও চন্দনাইশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিটের সাবেক কমান্ডার জাফর আলী হিরু শোক প্রকাশ করে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তিরা একে একে চলে যাচ্ছেন। এতে একটি বড় শূন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে।”
প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান মরহুমের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “রাজনীতিতে তাঁর মতো সৎ ও স্বচ্ছ মানুষ খুবই বিরল।”
বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীও মরহুম নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে একজন দাগহীন, জনকল্যাণমুখী ও আদর্শ নেতা হিসেবে অভিহিত করেন।











