ঢাকা | জুলাই ১১, ২০২৬ - ৪:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বাউফলে অটোরিকশার ধাক্কায় শিক্ষক নিহত, এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদের শোক

  • আপডেট: Saturday, July 11, 2026 - 2:20 pm

বাউফল সংবাদদাতা।। হাতে ছিল জায়নামাজ। প্রতিদিনের মতো এশার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন (মুসা)। কিন্তু সেই পথই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ যাত্রা।

পটুয়াখালীর বাউফলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন, অগ্রণী বিদ্যাপীঠ নুরাইনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক মো. মুসা (৪৯)।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর বড় সেতুর উত্তর পাশে প্রধান সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

শিক্ষক মুসার আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য(এমপি) ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে পরিবারকে এ অপূরণীয় শোক সইবার শক্তি দানের প্রার্থনা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, “স্থানীয় সাহেব বাড়ি জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে জায়নামাজ হাতে হেঁটে যাচ্ছিলেন শিক্ষক মুসা। নুরাইনপুর-কেশবপুর সংযোগ সেতুর কাছে পৌঁছালে বাউফল থেকে কালিশুরীগামী একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।”

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাঈম সাকিব জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “চিকিৎসা শুরুর পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

বাউফল থানার “ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, “২০০০ সালে মো. মুসা অগ্রণী বিদ্যাপীঠ নুরাইনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গণিতের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।” দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রেখে গেছেন।

তার আকস্মিক মৃত্যুতে, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সহকর্মী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তারা বলেন, একজন সাদাসিধে, ধর্মপ্রাণ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে তিনি সকলের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ ছিলেন। তার এমন আকস্মিক বিদায়ে নুরাইনপুরজুড়ে এখন শুধু শোক আর স্মৃতির ভার।