ঢাকা | জুন ২১, ২০২৬ - ৯:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সম্পন্ন হয়েও হচ্ছে না ঈদগাঁও বাজারের ইজারা কার্যক্রম, খাস কালেকশন ঘিরে প্রশ্ন

  • আপডেট: Sunday, June 21, 2026 - 6:53 pm

ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:

 

কক্সবাজার জেলার গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাঁও বাজারের ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরও এখনো দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের কারণে ইজারা কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঈদগাঁও বাজারের পঞ্চম দফা দরপত্রে সরকার নির্ধারিত মূল্য ছিল ৩ কোটি ২৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫৬৭ টাকা। দীর্ঘ সময় দরপত্র প্রক্রিয়া জটিলতায় থাকায় প্রথম চার দফায় কেউ অংশ নেয়নি। পরে উপজেলার পশ্চিম পোকখালীর মো. আনোয়ার হোসেন দরপত্রে অংশ নিয়ে ৩ কোটি ২৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকায় বাজারটির ইজারা লাভ করেন। ভ্যাটসহ সরকারের মোট প্রাপ্য অর্থ দাঁড়ায় প্রায় ৪ কোটি ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা।

 

অভিযোগ রয়েছে, ইজারাদার নির্বাচিত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত বাজারের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে ‘খাস কালেকশন’ পদ্ধতি চালু রাখা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অতীতে মাছ বাজার, কাঁচাবাজার, ছাগল বাজার এবং বিভিন্ন পরিবহন খাত থেকে দৈনিক ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় হতো। বর্তমানে সরকারি হিসাবে তুলনামূলক কম পরিমাণ আদায় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা।

 

ইজারাদার পক্ষের দাবি, তারা ইতোমধ্যে সরকারি হিসাবে ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৭ জুন বকেয়া পরিশোধের অংশ হিসেবে আরও ৫০ লাখ টাকার পে-অর্ডার নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের অভিযোগ, গত দুই মাস পাঁচ দিনের খাস কালেকশনের আয় ইজারার মোট অর্থ থেকে সমন্বয়ের দাবি জানানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি এবং পুরো অর্থ এককালীন জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

 

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতীতে বাজার ইজারা কার্যক্রমে প্রথম কিস্তি জমা দিয়ে বাকি অর্থ নির্ধারিত সময় বা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হতো। এবার সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কোরবানির মৌসুমে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সময় পার হলেও ইজারা হস্তান্তর না হওয়ায় সম্ভাব্য রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে খাস কালেকশন ঘিরে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

 

উল্লেখ্য, ঈদগাঁও বাজারের ইজারা ও খাস কালেকশন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।