ঢাকা | জুন ২১, ২০২৬ - ৭:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা প্রশাসকের

  • আপডেট: Sunday, June 21, 2026 - 4:19 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান।।

 

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ মাহবুব ইলাহী তাকে ও ইউনিয়ন পরিষদকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রোববার (২১ জুন) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি দাবি করেন, গত ২০ জুন বিভিন্ন জাতীয়, স্থানীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসক মাহবুব ইলাহী বলেন, জন্ম নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, ওয়ারিশ সনদ, খাল খনন ও পুনঃখনন এবং টোল ট্যাক্স বা ইজারা আদায় সংক্রান্ত যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উত্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।

 

তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন জমা পড়ার পর নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন যাচাই করা হয়। প্রথমে গ্রাম পুলিশ বিষয়টি যাচাই করেন, এরপর দফাদার, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) এবং সচিবের স্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন তার নিকট উপস্থাপন করা হয়। একইভাবে নাগরিক সনদের ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের যাচাইকৃত কপি সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন প্রদান করা হয়।

 

পারিবারিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যু নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব সেবার ক্ষেত্রে গ্রাম পুলিশ, দফাদার, সংশ্লিষ্ট সদস্য, সমাজপ্রধান ও ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রতিবেদন ও স্বাক্ষর গ্রহণের পর যাচাই সম্পন্ন করে অনুমোদন দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

 

মাহবুব ইলাহী বলেন, তিনি কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন; এটি তার অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি লামা ও আলীকদম উপজেলার দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্ধারিত বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে আনা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, অপচয় ও দুর্নীতির অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করা হয়। তিনি বলেন, কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন না এবং প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন। তাই এ ধরনের অভিযোগের বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই।

 

এছাড়া তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ মহল অবৈধভাবে কিছু ব্যক্তির জন্য জন্ম নিবন্ধন ও নাগরিক সনদ প্রদানের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তিনি সরকারি বিধি-বিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে সম্মতি দেননি। এর ফলে ক্ষুব্ধ একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মিথ্যা অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

টোল ট্যাক্স ও ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য গত ১২ মে উন্মুক্ত নিলাম আহ্বান করা হয়। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা ১ কোটি ২০ লাখ টাকা দর প্রদান করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি অর্থ জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সম্মতিক্রমে ওই প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়।

 

পরবর্তীতে পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খাস কালেকশনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন ও স্মারকের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে পুনরায় আলোচনা করে আগামী ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য খাস কালেকশন ও ওয়ার্ক পারমিট কার্যক্রম বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

তিনি আরও জানান, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন অর্থবছরের টোল ট্যাক্স ইজারা আদায়কারী নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি বলেও উল্লেখ করেন।

 

সংবাদের একাংশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ৮০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কখনো এ বিষয়ে পরিষদে উপস্থিত হননি বা অর্থ লেনদেনের কোনো আলোচনা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

 

সবশেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একপাক্ষিক বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করে যথাযথ যাচাই-বাছাই করে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন করা উচিত।