ঢাকা | মে ২৬, ২০২৬ - ১০:০৫ অপরাহ্ন

রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন

  • আপডেট: Tuesday, May 26, 2026 - 7:57 pm

 

রাজস্থলী প্রতিনিধি।।

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া বাজারের রাইস মিলের পাশে ও সিনেমা হলের বান্দরবান সড়ক ব্রিজ সংলগ্ন অবস্থিত দুটি কারখানায় অনুমোদন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে।

আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই দুটি কারখানার নেই কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি (বিএফএসএ) নিবন্ধন, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কোনো অনুমতিই গ্রহণ করেনি।

এছাড়া কারখানাগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। আইসক্রিম তৈরির কাজে ব্যবহৃত ট্রে জংধরা এবং স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। আইসক্রিমে মেশানো হচ্ছে স্যাকারিন।

স্থানীয়রা জানান, আইসক্রিম উৎপাদনে স্যাকারিনসহ বিভিন্ন কৃত্রিম রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। আইসক্রিম একটি দুগ্ধজাত খাদ্য হওয়ায় এর মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।

স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, কারখানাগুলো দীর্ঘদিন ধরে আইসক্রিম তৈরি করছে। এর আগেও সেখানে জরিমানা করা হয়েছে। তাদের নামে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তারা আইসক্রিম তৈরি করছেন, যা শিশুদের জন্য ক্ষতিকর।

স্থানীয় চানুপ্রু মারমা জানান, পুরোপুরি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে আইসক্রিম। এ কারখানার আইসক্রিম রাজস্থলী উপজেলার নাক্যছড়া, গবাছড়া, খাগড়াছড়ি, কদুমছড়া ১০ মাইল, ইসলামপুর, শফিপুর ও রাজস্থলী বাজারে বিক্রি করা হয়। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ কারখানায় রং, স্যাকারিনসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করে আইসক্রিম তৈরি করা হয়।

কারখানার মালিক সুনিল বাবু জানান, বর্তমানে তার কাছে সব ধরনের অনুমোদনপত্র নেই। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট সংগ্রহ করবেন। তবে আইসক্রিমে স্যাকারিন ব্যবহারের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. নওশাদ খান বলেন, আইসক্রিমে স্যাকারিন বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হলে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমন খাবার শিশুদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা আগেও এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুনরায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।