ঢাকা | মে ২১, ২০২৬ - ৫:১৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

নিখোঁজের এগারো দিনেও খোঁজ মিলেনি গৃহবধূ ও তিন বছরের শিশু সন্তানের

  • আপডেট: Thursday, May 21, 2026 - 3:58 pm

লংগদু (রাঙামাটি)

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের সোনারগাঁও ৩নং ওয়ার্ডের আজিজুলের স্ত্রী হাফসা (২২) ও তার তিন বছরের ছেলে সন্তান নিখোঁজ হওয়ার আজ প্রায় এগারো দিন পার হলেও এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি তাদের। এ বিষয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর লংগদু থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন স্বামী আজিজুল।

সরেজমিনে আজিজুলের বাড়িতে গিয়ে তার ও পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার ৮ মে বিকেলে গৃহবধূ হাফসা ও তার ছেলে সন্তান বাসা থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

আজিজুল জানান, “ওইদিন বিকেলে আমার ভাবিকে নিয়ে আমি চৌমুহনী বাজারে ডাক্তারের কাছে যাই। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে মা ফোন করে বলে আমার স্ত্রী বাসায় নেই। পরে আমরা সবাই খোঁজাখুঁজি করি, কিন্তু কোথাও পাইনি। পরের দিনও খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তার পরের দিন আমরা থানায় জিডি করি।”

তবে বিষয়টি মেয়ের পরিবারকে জানায়নি আজিজুল ও তার পরিবার। পরদিন থানা পুলিশের মাধ্যমে মেয়ের পরিবার জানতে পারে তাদের মেয়ে তিন বছরের সন্তানসহ নিখোঁজ রয়েছেন। কেন জানানো হয়নি এমন প্রশ্নে আজিজুল বলেন, “আমার সঙ্গে তাদের পরিবারের মামলা ও দ্বন্দ্ব চলমান, তাই রাগ করে তাদের জানানো হয়নি।”

তিনি আরও জানান, “আমি সম্ভাব্য সব জায়গায় গিয়েছি, এখনো যাচ্ছি। কোথাও কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। পুলিশ তদন্তে এসেছিল, তারাও বিষয়টি দেখছেন।”

মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন পায়ে ব্যথা নিয়ে হাঁটাচলা করছিলেন এমন প্রশ্নে আজিজুল জানান, “ঘরের আড়া থেকে বাটাম নামাতে গিয়ে বাটাম তার পায়ে পড়ে যায়, তখন সে ব্যথা পায়।”

স্ত্রীকে নিয়মিত নির্যাতন করতেন কি না জানতে চাইলে আজিজুল স্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আমার স্ত্রী একটি মামলা করেছিল। সেই মামলা কিছুদিন আগে আপোষ হওয়ার পর থেকে আর কোনো ঝামেলা আমাদের মাঝে ছিল না। এদিকে আমার স্ত্রীর ভাই আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে। আমরাও তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছি। এগুলো মীমাংসা হওয়ার জন্য আমার স্ত্রীকে বলেছিলাম। এর মাঝেই আমার স্ত্রী বাসা থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছে।”

এ বিষয়ে মেয়ের বড় ভাই আক্কাস আলি জানান, “আমার বোনকে বিয়ের পর থেকেই তারা নির্যাতন করে আসছে। অনেক বিচার-সালিশ করেও রেহাই পায়নি আমার বোন। বোনের ওপর নির্যাতন দেখে আমি বাদী হয়ে থানায় একটি জিডি করি, পরে সেই জিডি আদালতে মামলা হয়। এরপর তারাও আমাদের নামে মামলা করে। এসব মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বারবার আমার বোনকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “গত শুক্রবার কখন আমার বোন হারিয়েছে আমরা জানি না। আমাদেরকে থানা থেকে ১১ তারিখ ফোন করে জানানো হয়েছে যে আপনার বোনকে সন্তানসহ পাওয়া যাচ্ছে না। তখন আমরা জানতে পারি আমার বোন নিখোঁজ হয়েছে। এরপর থেকে দিশেহারা হয়ে অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করছি, কোথাও পাইনি। এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা জানি না সে কোথায় আছে, কীভাবে আছে।”

আক্কাস আলি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা ধারণা করছি তারাই আমার বোনকে লুকিয়ে অথবা গুম করে রেখেছে। কারণ আমি যে মামলা করেছি, সেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বোন জামাই আমার বোনকে বারবার চাপ দিচ্ছিল।”

তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত তার বোন ও ভাগ্নেকে উদ্ধারের দাবি জানান।

এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের মাঝেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ে গৃহবধূ ও তার সন্তানকে উদ্ধার করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা হোক।

লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া বলেন, “স্বামীর পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে পুলিশের একটি টিম তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মা ও শিশুকে দ্রুত উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।”