ঢাকা | মে ৪, ২০২৬ - ৯:৩০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

প্রতিষ্ঠার ২৬ বছরেও ডাম্পিং স্টেশন নেই মিরসরাই ও বারইয়ারহাট পৌরসভায়

  • আপডেট: Monday, May 4, 2026 - 7:50 pm

মিরসরাই প্রতিনিধি।।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের প্রথম শ্রেণীর দুটি পৌরসভায় প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পরও কোনো ময়লার ডাম্পিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি। দুই পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে। ময়লায় আগুন দেওয়ার ধোঁয়ায় ঘটছে দুর্ঘটনা, দূষিত হচ্ছে বায়ু।
বারইয়ারহাট পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হয় ২০০০ সালের ২৭ এপ্রিল। ২ দশমিক ১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রথম শ্রেণীর এ পৌরসভায় জনসংখ্যা ১১ হাজার ৬০২। এখানে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ১৫টি ছোট-বড় কলকারখানাসহ ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল ও হোটেল-রেস্তোরাঁ রয়েছে। কিন্তু ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় সব ময়লা মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বারইয়ারহাটের আল নূর হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, সড়কের পাশে হাসপাতালের সামনে ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে। ময়লার দুর্গন্ধে রোগীরা এখানে না এসে অন্য হাসপাতালে চলে যান।
বারইয়ারহাট পৌরসভার কর্মকর্তা আব্দুল হক বলেন, ডাম্পিং স্টেশনের জন্য ১ একর ৬৫ শতক জমি কেনা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে। আপাতত সড়কের পাশে ময়লা ফেলে আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে।
মিরসরাই পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০০ সালের ৮ নভেম্বর। ১০ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় ২০ হাজার ৭১ জন বাসিন্দা ও ৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০২৩ সালে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হওয়া পৌরসভাটিরও নেই কোনো ডাম্পিং স্টেশন। প্রতিদিন ময়লা ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের উত্তর দিকে বাইপাস এলাকায়।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওই এলাকায় ময়লায় দেওয়া আগুনের ধোঁয়ায় একটি প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় পড়ে কয়েকজন আহত হন।
মিরসরাই পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাইয়ুম উদ্দিন বলেন, ময়লার কিছু অংশ সড়কের পাশে আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হয়, সিংহভাগ পাহাড়ের পাদদেশে গর্ত করে পুঁতে ফেলা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দুই পৌরসভার জন্য একটি ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সড়কের পাশে ময়লা থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ এত দূর পর্যন্ত মানুষের শরীরে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে পারে। দ্রুত অপসারণ করা জরুরি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলে উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। তবে এই বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
বারইয়ারহাট পৌর প্রশাসক ও ইউএনও সোমাইয়া আক্তার বলেন, বর্জ্যগুলো অন্যত্র অপসারণের জন্য বলা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতনও বাড়ানো হয়েছে। তারপরও কেন সড়কে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।