ঢাকা | এপ্রিল ১৮, ২০২৬ - ৪:৫১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট: Saturday, April 18, 2026 - 1:53 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার একটি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, শুধু রাজধানী নয়, দেশের জেলা ও উপজেলাতেও উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের সুচিকিৎসা পাওয়া একটি নৈতিক অধিকার, এবং সেই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে টিকা প্রদান না করা ছিল বড় ধরনের ব্যর্থতা। বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করেছে। এ সময় হামসহ বিভিন্ন রোগে যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

সরকারের এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনগণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে ৮০ ভাগ নারী কর্মী থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুচিকিৎসা নিশ্চিতে দেশের চিকিৎসকের সহায়তা দরকার। সরকারকে সহযোগিতায় প্রত্যেক চিকিৎসককে এগিয়ে আসাতে হবে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে, বাকি সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে করা হবে।’

স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী করা, সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা এবং সরকারের নির্দেশনা চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত জরুরি সেবা ক্যাটাগরিতে মনোনীত ছয় চিকিৎসককে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্রেস্টপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা হলেন- ডা. শোভন কুমার বসাক, ডা. আল মোরশেদ, ডা. মুজিবুর রহমান, ডা. সাজিদ হাসান, ডা. সুমন কান্তি সাহা ও ডা. তাসনিম জুবায়ের।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বৈঠক।