ঢাকা | এপ্রিল ১৩, ২০২৬ - ১:১৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

মালয়েশিয়াগামী ২৭৩ যাত্রী নিয়ে ট্রলারডুবি: জীবিত উদ্ধার-৯

  • আপডেট: Sunday, April 12, 2026 - 10:30 pm

এম এ হাসান, টেকনাফ।।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা দিয়ে সাগর পথে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এতে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে বাংলাদেশি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ এমটি মেঘনা প্রাইড আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৯ জন বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে উদ্ধার করেছে। তারা পানির ড্রাম ও কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে প্রাণে বেঁচে যান।

উদ্ধারের পর তাদের বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়।

১২ এপ্রিল (রবিবার) সকালে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশি ও ৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশিদের মধ্যে আছেন কক্সবাজার সদর সমিতিপাড়ার মো. হামিদ (৩৩), চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মো. মহিউদ্দিন হৃদয় (৪২), টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের মো. তোফাইল (২৭), হোয়াইক্যংয়ের মো. সোহান উদ্দিন (৩২), নুনিয়ারছড়ার মো. আকবর (৩২) এবং টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মো. সৈয়দ আলম (২৭)। রোহিঙ্গাদের মধ্যে রয়েছেন উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের মো. রফিকুল ইসলাম (২৪), রাহেলা বেগম (২৫) ও মো. ইমরান (১৭)।

এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, কোস্ট গার্ডের পেটি অফিসার শামসুল আলম বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করেছেন। পরে উদ্ধারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রে একটি নৌকা বিপদগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। পরে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে এমটি মেঘনা প্রাইড জাহাজ তাদের উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের জাহাজে হস্তান্তর করে।

তিনি আরও জানান, টেকনাফের একটি গুদামে কাজ দেওয়ার প্রলোভনে তাকে নেওয়া হয়। পরে একটি অন্ধকার স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। গত ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় তাকে ও আরও অনেককে সমুদ্রপথে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে ছোট নৌকায় এবং পরে একটি বড় ট্রলারে তোলা হয়, যেখানে প্রায় ২৪০ থেকে ২৫০ জন যাত্রী ছিলেন। উত্তাল সাগরে ট্রলারটি ডুবে গেলে অনেকে নিখোঁজ হন। রফিকুল ইসলাম জানান, তারা পানির বোতল ও ভাসমান বস্তু আঁকড়ে ধরে দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে ছিলেন। পরে একটি জাহাজের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।