ঢাকা | এপ্রিল ১০, ২০২৬ - ৯:৩৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করবেন ৫২ রেফারি ও ৮৮ জন সহকারী রেফারি

  • আপডেট: Friday, April 10, 2026 - 7:12 pm

স্পোর্টস ডেস্ক।। আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে ম্যাচ পরিচালনার জন্য বিশ্বের সেরা রেফারিদের তালিকা প্রকাশ করেছে ফিফা। প্রায় তিন বছর ধরে চলা বিস্তৃত ও সূক্ষ্ম নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়।

বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত ‘ফিফা টিম ওয়ান’-এ রাখা হয়েছে মোট ৫২ জন রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি এবং ৩০ জন ভিডিও ম্যাচ অফিসিয়ালকে। সব মিলিয়ে ৫০টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিত্ব থাকছে এই দলে, যা ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যময় ম্যাচ অফিসিয়াল প্যানেল।

 

রেফারি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফিফার দীর্ঘদিনের ‘কোয়ালিটি ফার্স্ট’ নীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, ফিফা টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতা এবং সামগ্রিক মান বিবেচনায় নিয়েই এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

 

ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা এবং রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কলিনা বলেন, ‘নির্বাচিত ম্যাচ অফিসিয়ালরা বিশ্বের সেরা। গত তিন বছর ধরে আমরা তাদের পর্যবেক্ষণ করেছি, বিভিন্ন সেমিনার ও ফিফা টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করতে দেখেছি। তাদের পারফরম্যান্স নিয়মিত মূল্যায়ন করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, নির্বাচিত রেফারিদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখতে ফিটনেস কোচ, চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট এবং মানসিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ৩১ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে তারা একত্রিত হয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করবেন।

 

এই বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন, যেখানে ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। পিয়েরলুইজি কলিনা বলেন, ‘এটি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফিফা টিম ওয়ান, যেখানে কাতার ২০২২-এর তুলনায় ৪১ জন বেশি ম্যাচ অফিসিয়াল থাকবে। প্রত্যেককেই যে কোনো ম্যাচ পরিচালনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

এবারের বিশ্বকাপে ছয়জন নারী ম্যাচ অফিসিয়ালও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যা নারী রেফারিং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অংশ।

টুর্নামেন্ট চলাকালে ম্যাচ অফিসিয়ালরা প্রতিদিন প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন এবং স্থানীয় খেলোয়াড়দের সহায়তায় অনুশীলন করবেন। পাশাপাশি ম্যাচ বিশ্লেষকরা প্রতিটি ম্যাচের আগে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবেন, যাতে রেফারিরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে পারেন।

 

প্রযুক্তির ব্যবহারও এবার আরও উন্নত করা হয়েছে। গোললাইন প্রযুক্তি, উন্নত সংস্করণের সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি এবং কানেক্টেড বল প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি এবার প্রথমবারের মতো রেফারির শরীরে ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে দর্শকরা সরাসরি রেফারির দৃষ্টিকোণ থেকে ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।

 

ফিফার রেফারিং পরিচালক ম্যানিসমো বুসাক্কা বলেন, ‘২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই আমরা ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করি। নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রার্থীদের উন্নয়ন করা হয়েছে, যাতে তারা সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে পারে।’

 

এছাড়া ম্যাচের গতি বাড়ানো এবং সময়ক্ষেপণ কমাতে দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড এর অনুমোদিত নতুন কিছু নিয়মও এই বিশ্বকাপে প্রয়োগ করা হবে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাতেও তিনটি নতুন সমন্বয় আনা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও প্রস্তুতির সমন্বয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে যাচ্ছে ফিফা।