ঢাকা | মার্চ ৯, ২০২৬ - ৬:৫৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ৮ কোটিতে ক্রয়; পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন

  • আপডেট: Monday, March 9, 2026 - 3:41 pm

কামাল পারভেজ।। 

চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের একটি ক্রয় প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়ম ও স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ৮ কোটির বেশি দামে ক্রয় করা হয়েছে এবং পরবর্তী কয়েকটি দরপত্র প্রক্রিয়াতেও একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

‘১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ৮ কোটিতে ক্রয়’ শিরোনামে প্রথম সংবাদ প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো জনতা-তে এবং পরদিন ১৯ অক্টোবর দৈনিক নয়া শতাব্দী পত্রিকায়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ যাচাই করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

তদন্ত কার্যক্রম চলমান অবস্থায় ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি দৈনিক যুগান্তর এবং ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম প্রতিদিন পত্রিকায় একই বিষয়ে নতুন করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে অভিযোগের বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন অভিযোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের সিসিএস/পিএসটি চট্টগ্রামের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বহাল আছেন। একই সঙ্গে FAV ডিজেল সরবরাহ সংক্রান্ত কয়েকটি ইজিপি টেন্ডার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ইজিপি টেন্ডার আইডি নম্বর ১০৯৩৭৪৪, ১০৯২১৫৭, ১০৯৩৮২৬ ও ১০৯৩৮৮৫—এই দরপত্রগুলোতে আজমাইন এন্টারপ্রাইজ নামের ফ্যাসিবাদের একটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন দরদাতা।

দরপত্রের শর্ত নিয়ে বিতর্ক:

দরপত্র সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, টেন্ডার দলিল এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে।

সাধারণত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত দরপত্রে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ মালামাল সরবরাহের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত উল্লেখ থাকে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দরপত্রে ‘সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

দরদাতাদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা সনদ দেখিয়েও দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা প্রতিযোগিতায় ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

অভিজ্ঞতা সনদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন:

আরও অভিযোগ উঠেছে, আজমাইন এন্টারপ্রাইজ যে অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করেছে সেটি ইস্যু করেছে ইলিয়াছ ব্রাদার্স নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টদের মতে, চুক্তিপত্র অনুযায়ী যে সময়ে মালামাল সরবরাহের কথা উল্লেখ রয়েছে, সেই সময়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে সমপরিমাণ আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না তা যাচাই করলে সনদের সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে।

অন্যান্য দরদাতাদের দাবি, দরপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হচ্ছে অভিজ্ঞতা সনদের যথাযথ যাচাই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই যাচাই যথাযথভাবে করা হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

পূর্বের তদন্ত কমিটি অপারগতা প্রকাশ করায় আবারও দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক পাহাড়তলী রাশেদ ইবনে আকবরের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।