ঢাকা | মার্চ ২, ২০২৬ - ৮:০০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

লামা উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে বাজারমূল্যের তারতম্য

  • আপডেট: Monday, March 2, 2026 - 5:36 pm

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি।
লামা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য তারতম্যে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ বাজারের বিভিন্ন দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
প্যাকেটজাত বিস্কুট, চানাচুর, কেকসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ছাড়াও মসলাজাত দ্রব্য, ঘি ও ভোজ্য তেলেও অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বোতলজাত ভোজ্য তেলে ওজনে কম থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
১ মার্চ রোববার লামা উপজেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর খুকুমণি এবং বাজার মনিটরিং কমিটির সদস্য ও লামা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান উপজেলার আজিজনগর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডিগ্রিখোলা, কেল্লাখোলা ও কম্পোনিয়া বাজারের কয়েকটি দোকান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন ভেজাল ও অনিয়ম ধরা পড়ে।
তাদের পরিদর্শনে দেখা যায়, এক লিটার ভোজ্য তেলের বোতলে ৭৩৫ গ্রাম, আধা লিটার বোতলে ৩৮০ গ্রাম এবং ২৫০ মিলিলিটার বোতলে ২০০ গ্রাম তেল রয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য তাৎক্ষণিকভাবে নষ্ট করা হয়।
এছাড়া কেয়াজুপাড়া বাজারের দুটি বড় মুদি দোকানে পণ্যের মূল্য যাচাইয়ে যথেষ্ট তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা, ডিম ৯ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে একই সময় বা তারও তিন দিন আগে থেকে লামা পৌর শহরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকা, ডিম ৭ টাকা, দেশি আলু ৩০ টাকা এবং ললিতা আলু ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, রমজান মাস এলেই বাজার মনিটরিংয়ে সরকারি তদারকি চোখে পড়ে। কিন্তু বছরের বাকি সময়গুলোতে কার্যকর নজরদারি থাকে না। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে পণ্যের পরিমাণ, মান ও মূল্য কোনোটিই নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি লামা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেয়াজুপাড়া বাজারে ভোক্তা অধিকার আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে একজনকে তিন দিনের কারাদণ্ড দেন এবং কয়েকজন দোকানিকে জরিমানা করেন। তবে বিস্ময়ের বিষয়, দুই দিন না যেতেই ওই বাজারে একই ধরনের অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে কিছু ব্যবসায়ী।
এদিকে নিত্যপণ্যের মূল্য তারতম্যে দরিদ্র শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।