মীর হেলালের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়েছে পিসিসিপি
রাঙামাটি প্রতিনিধি।।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে কুচক্রী মহলের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর একটি বিশেষ মহল ‘পার্বত্য চুক্তি লঙ্ঘনের’ যে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে, তাকে ঐতিহাসিক সত্যের চরম অপলাপ বলে আখ্যায়িত করে বিবৃতি দিয়েছে অদ্য মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম।
পিসিসিপি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে জানান যে, প্রশাসনিক ইতিহাস ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মীর হেলাল এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রথম কোনো বাঙালি নন। বরং রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিগত দুই দশকে অন্তত ৮ জন বাঙালি ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন সময়ে এই মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী শীর্ষ পদে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঐতিহাসিক নজির টেনে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজেই এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, লেঃ জেঃ (অবঃ) হাসান মশহুদ চৌধুরী, লেঃ জেঃ (অবঃ) রুহুল আলম চৌধুরী, ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী এবং ড. ফখরুদ্দীন আহমদের মতো প্রথিতযশা বাঙালি ব্যক্তিত্বরা বিভিন্ন সময়ে এই মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। সুতরাং, বর্তমান সরকারের একজন দক্ষ বাঙালি আইনজীবীকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া কোনোভাবেই চুক্তি লঙ্ঘন নয়, বরং এটি একটি সুদীর্ঘ প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি কোনো রাষ্ট্রীয় আইন নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতা স্মারক মাত্র, যা দেশের সার্বভৌম সংবিধান বা সংসদের কোনো বিধিবদ্ধ আইনকে পাশ কাটিয়ে সরকারের প্রশাসনিক এখতিয়ারকে খর্ব করতে পারে না। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এই নিয়োগের মাধ্যমে পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার সমান করার লক্ষ্যে একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির সূচনা করেছেন। তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সবার পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ এবং পাহাড়ি-বাঙালির বৈচিত্র্যই এই দেশের সৌন্দর্য। নেলসন ম্যান্ডেলার ‘রেইনবো নেশন’ ধারণার আদলে পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে কৃত্রিম বিভেদ ও অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে সবাইকে একই জাতীয় পতাকার নিচে একীভূত করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। পার্বত্য চট্টগ্রাম কেবল দেশের আয়তনের এক-দশমাংশই নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতির অন্যতম স্তম্ভ। কৌশলগত ভৌগোলিক কারণে এই অঞ্চলটি সবসময় আন্তর্জাতিক অপশক্তির নজরদারিতে থাকে এবং একটি গোষ্ঠী পাহাড়কে অশান্ত রাখতে চায়। বিগত দেড় দশকের হাসিনা শাসনামলে ‘তোষণ নীতি’র মাধ্যমে পাহাড়ি বাঙালিদের নাগরিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল, যার অবসান ঘটিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) মনে করে, এই মন্ত্রণালয়ে উপজাতীয় মন্ত্রী হিসেবে সাবেক বিচারক দীপেন দেওয়ানের পাশাপাশি বাঙালি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নিয়োগ পার্বত্য চট্টগ্রামবাসী সাধুবাদ জানিয়েছে। এই জোড়া নেতৃত্ব পাহাড়ের দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞ মতানুসারে, পার্বত্য চুক্তির শর্ত মেনে দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী করার মাধ্যমে চুক্তির মূল দাবি পূরণ হয়েছে এবং চুক্তিতে কোনো বাঙালিকে প্রতিমন্ত্রী করা যাবে না—এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধানই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন এবং এই নিয়োগের বিরোধিতা করা মূলত সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করার শামিল। পাহাড় ও সমতলের বৈষম্য দূর করে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে সবাইকে একীভূত করার এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য তারেক রহমানের সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে কুচক্রী মহলের যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।











