ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ৯, ২০২৬ - ৮:৩৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

গর্ভবতী নারীকে হেনস্তার প্রতিবাদে বাউফলে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

  • আপডেট: Monday, February 9, 2026 - 5:48 pm

মো. রিয়াজ (বাউফল) প্রতিনিধি।। বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে বিএনপি কর্মীদের দ্বারা গর্ভবতী নারীসহ সাধারণ নারীদের উপর হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদে মহিলা জামায়েত ইসলামীর উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা জামায়াত কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে বাউফল সরকারি কলেজের সামনে সড়কে এক বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

ডা. জাকিয়া ফারহানার নেতৃত্বে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ মিছিলে এক পর্যায়ে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ অংশগ্রহণ করেন।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাউফলের ইতিহাসে এত বিপুল সংখ্যক নারীর অংশগ্রহণে এমন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আগে কখনো দেখা যায়নি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন,“আবার যদি আমাদের মা-বোনদের হেনস্তা করার দুঃসাহস করা হয়, তাহলে যেভাবে আমরা থানা ঘেরাও করেছি, ঠিক সেভাবেই বাউফলের জনগণ তাদের বাড়ি ও এলাকা ঘেরাও করবে। আমাদের শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরো বলেন, জীবন বাজি রেখে হলেও আমরা তাদের সম্মান রক্ষা করব। নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন,৭১–এ আপনারা রাস্তায় নেমেছিলেন, বিজয় এসেছে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নেমেছিলেন, বিজয় এসেছে। ২৪–এ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নেমে পতন ঘটিয়েছেন। আপনারা ২৬–এও বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরবেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, চন্দ্রদ্বীপে তাদের অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মীকে কুপিয়ে ও মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। এমনকি গর্ভবতী এক মায়ের পেটে লাথি মেরে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে বাউফলের জনগণ লংমার্চসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করে দোষীদের বেঁধে প্রশাসনের হাতে তুলে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ড. মাসুদ।

মহিলা জামায়াত নেত্রী ডা. জাকিয়া ফারহানা বলেন,
“আমরা নারীরা জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়েছি, আমাদের অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছি। অথচ বিপ্লবের মাত্র কয়েক মাস পরই আমাদের মা-বোনদের উপর এমন বর্বরতা চালানো হচ্ছে। চন্দ্রদ্বীপ, দাসপাড়া ও ধুলিয়ায় আমাদের হিজাব টেনে খুলে নেওয়া হয়েছে, বোরকা খুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু নারীদের উপর হামলা নয়, মানবতার উপর আঘাত।

তিনি প্রশাসনের নীরব ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং বলেন, “আমরা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়েই ঘরে ফিরতে চাই। আগামী ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ এই সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত জবাব দেবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, মহিলা বিভাগের উপজেলা সেক্রেটারি হেদারা বেগম, সহকারী সেক্রেটারি ফেরদৌসী বেগম, কর্মপরিষদ সদস্য রাহিমা বেগম, আফরোজা বেগম, শাহনাজ বেগম, খাদিজা বেগম সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এসময় কয়েক হাজার নারী নেতাকর্মী বিক্ষোভে অংশ নেন।