মায়ানমারে পাচারকালে ৯’শ বস্তা সিমেন্টসহ ১৪ পাচারকারী গ্রেফতার
এম এ হাসান, টেকনাফ।।
মায়ানমারে পাচারকালে যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট ও মূলহোতাসহ ১৪ জন পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় গত সোমবার ভোর ৪টায় বিসিজি স্টেশন সেন্টমার্টিন কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ১টি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৯’শ বস্তা সিমেন্ট ও পাচারকাজে ব্যবহৃত বোটসহ ১৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে, আটককৃত বোট মাঝি চাঁন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিনে বিকাল ৫টায় কোস্ট গার্ড ও র্যাব-১৫ (সিপিসি-২) এর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী সংলগ্ন এলাকা হতে মায়ানমারে পণ্য পাচারের অন্যতম মূলহোতা মোঃ আজিম উল্লাহ (৪০) কে আটক করা হয়।
আটককৃত মোঃ আজিম উল্লাহ কক্সবাজারের উখিয়া, বালুখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে দীর্ঘদিন ধরে মায়ানমারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের সাথে জড়িত। সে মায়ানমারে অবস্থানকারী আনোয়ার নামক ব্যক্তির থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা গ্রহণ করে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া এলাকার বিভিন্ন অসাধু বোট মালিকের সহযোগিতায় বোটযোগে এ সকল পণ্য মায়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মির’ নিকট পাচার করে আসছিল।
এছাড়া, জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, উক্ত পাচারের বিনিময়ে সে প্রায়শই মাদক, বিদেশি সিগারেটসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টা করত। পাশাপাশি, তার মুঠোফোন পর্যালোচনা করে এ সকল পাচারকাজের মাধ্যমে প্রাপ্ত কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর কোস্ট গার্ড ও র্যাবের সমন্বিত অভিযানে এই পাচার সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা মোঃ আজিম উল্লাহকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। এ চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আটককৃত অন্য আসামিরা হলেন, সন্দ্বীপ সারিকাইত এলাকার মৃত আঃ মোনাফের পুত্র মোঃ জাফর (৪৫), একই ইউনিয়নের বিকাশ দাশের পুত্র সম্পদ দাশ (৩৮), মৃত শাহাবুদ্দীনের পুত্র মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩০), মোঃ মনজুর আলমের পুত্র মোঃ রবিউল আলম, শফিকুল আলমের পুত্র চাঁন মিয়া (৩৯), মৃত আঃ মোতালেবের পুত্র মোঃ ইলিয়াস (৪২), সারিকাইত ইউনিয়নের মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের পুত্র মোঃ রিপন (২৬), একই ইউনিয়নের মোঃ ইব্রাহিমের পুত্র মোঃ আরিফ (২৫), মোঃ নুর আলমের পুত্র মোঃ আলাউদ্দিন (২৬), মোঃ নুরুজ্জামানের পুত্র মোঃ নোয়াব (৪৫), আজিজুর রহমানের পুত্র মোঃ মামুন (২৬), মোঃ বাবুলের পুত্র মোঃ আরমান (১৯) ও মোঃ জসিমের পুত্র মোঃ মান্নান (২২)।
জব্দকৃত সিমেন্ট, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পাচার ও চোরাচালান রোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে জানায়।











