বান্দরবানে অপহৃত দুইজনকে মুক্তিপণ ছাড়াই ছেড়ে দিল সন্ত্রাসীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক।
বান্দরবান সদর উপজেলার নীলাচল এলাকা থেকে অপহৃত দুইজন ব্যক্তিকে কোনো ধরনের মুক্তিপণ ছাড়াই ছেড়ে দিয়েছে অজ্ঞাত সন্ত্রাসী দল। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে তাদের বান্দরবান সদরের সুয়ালক ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন , বান্দরবান শহরের থ্রি স্টার আবাসিক হোটেলের মালিক বাবু কর্মকার (৫৫), বাসিন্দা বান্দরবান সদর উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং ওই হোটেলের ম্যানেজার অভি (২৮), বাসিন্দা বান্দরবান সদর উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ড। মুক্তি পাওয়ার পর তারা নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বান্দরবান সদর উপজেলার নীলাচল প্রাইমারি স্কুল এলাকা থেকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসী দল তাদের অপহরণ করে। অপহরণের পরদিন ৯ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীরা বাবু কর্মকারের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে তার স্ত্রী মনি রানী চৌধুরীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন করে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
দীর্ঘ প্রায় ১০ দিন পর কোনো ধরনের মুক্তিপণ ছাড়াই অপহৃত দুইজনকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন
-
জাপানি প্রতিনিধি দলের এনএমআই পরিদর্শন: বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য নতুন চাকরির সম্ভাবনাচট্টগ্রাম ব্যুরো বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের ইঙ্গিত মিলেছে জাপানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের চট্টগ্রাম ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট (এনএমআই) পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে। গত ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে জাপানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দল ইনস্টিটিউটটি পরিদর্শন করে বাংলাদেশি নাবিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রতিনিধি দলে জাপানের মেরিটাইম ব্যুরোর অকুপেশনাল হেলথ পলিসি ডিভিশনের ডিরেক্টর কাজুনারি ইয়োকোটা এবং একই বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তোমোআকি মুরাকামি উপস্থিত ছিলেন। তাদের এ সফরকে বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে তারা ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, অবকাঠামো ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন। এ সময় বাংলাদেশি নাবিকদের দক্ষতা, প্রশিক্ষণের মান এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রতিনিধি দল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নাবিকরা পরিশ্রমী, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা রাখেন। আলোচনায় জাপানের জাহাজ শিল্পে দক্ষ নাবিকের চাহিদা এবং সেই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভূমিকা গুরুত্ব পায়। জাপানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি সংখ্যক প্রশিক্ষিত নাবিক নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতা ও বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এনএমআই কর্তৃপক্ষ জানায়, জাপানের সঙ্গে এ ধরনের সহযোগিতা জোরদার করা গেলে দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ নাবিকের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সামুদ্রিক খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে। ভবিষ্যতে নতুন চুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিনিময় কার্যক্রমের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। সার্বিকভাবে, জাপানের এই প্রতিনিধি দলের সফর বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এটি নাবিকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।










