ঢাকা | মে ১৩, ২০২৬ - ১২:৪৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বগুড়ায় ৫ দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

  • আপডেট: Wednesday, May 13, 2026 - 12:13 pm

ডেস্ক রিপোর্ট।। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন আমলকে ‘বিড়ি শিল্পের স্বর্ণযুগ’ মনে করতেন শ্রমিকরা। জিয়াউর রহমান স্পষ্টভাবে বলতেন, “বিড়ি হলো গরিব মানুষের সিগারেট।

যারা দিনমজুর বা রিকশাচালক, তাদের বিনোদনের উপায় খুব সীমিত। তাই বিড়ির ওপর ট্যাক্স বাড়িয়ে তাদের ওপর চাপ বাড়ানো যাবে না। সেই সময়ের মতো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমলে আসন্ন বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার দাবি জানিয়েছেন বগুড়া জেলা বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন।

আজ বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের সামনে পাঁচ দফা দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানান তারা।

 

শ্রমিকদের দাবি সমূহ- বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধি না করা, বিড়ি শ্রমিকদের কর্ম দিবস বৃদ্ধি করা, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করা, বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করা এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করা।

 

মানববন্ধন শেষে বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনারের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিড়ি একটি দেশীয় শ্রমনির্ভর শিল্প, যার ওপর নির্ভর করে সারাদেশের প্রায় ১৮ লাখ শ্রমিকের জীবন জীবিকা। তবে নীতিগত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কারণে এ শিল্প সংকটে পড়েছে। প্রকৃত রাজস্ব প্রদানকারী বিড়ি মালিকরা অসংখ্য কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। সুতরাং বিড়ি শিল্প ও শ্রমিকদের কর্মরক্ষার্থে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার অনুরোধ করছি। একইসাথে বিড়ি শ্রমিকদের কর্মদিবস বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

 

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে দেশের তামাক বাজারের ৮০ শতাংশ নিম্নস্তরের সিগারেট দখল করে আছে। এতে বিড়ি শিল্প টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই বিড়ি শিল্প রক্ষায় নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রিকে শিল্পের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈধ উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় নকল বিড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়াও বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান শ্রমিকরা।

 

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন, লুৎফর রহমান, আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম, শ্রমিক নেতা সোহেল রানা প্রমূখ।

 

এ সময় শ্রমিকদের হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে দেশীয় শিল্প রক্ষা, বহুজাতিক কোম্পানির প্রভাব প্রতিহত করা এবং বিড়ি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।