ঝড়বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন কুমিল্লার ১৭ উপজেলার মানুষ
কুমিল্লা প্রতিনিধি।। ঝড়-বৃষ্টিতে কুমিল্লার ১৭টি উপজেলার বিদ্যুৎ খাতসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বিপুল সংখ্যক বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। কমপক্ষে অর্ধশত ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে গেছে।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হাজার ৭৩৩ হেক্টর জমির ফসল। গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঝড়-বৃষ্টিতে কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলায় এক হাজার ৭৩৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভুট্টা ৫৫০ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন সবজি ৩৬৪ হেক্টর ও তিল ৯১ হেক্টর। বাকি ৭২৮ হেক্টর ধানসহ অন্যান্য ফসলি জমি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, বৃষ্টির পানি যদি বেশি দিন আটকে থাকে তাহলে জমির পাকা ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়ে ১৭টি উপজেলার বিদ্যুৎ খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীন চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলার বিদ্যুৎ সংযোগ। গাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়ে শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে নষ্ট হয়েছে অর্ধশত ট্রান্সফরমার। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রাশেদুজ্জামান বলেন, বেশির ভাগ গ্রামীণ অঞ্চলেই বৈদ্যুতিক তারের ওপর গাছ পড়েছে, খুঁটি ভেঙে গেছে, বেশ কিছু ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। ঝড়ের পর থেকে তাদের টিম সব জায়গায় কাজ করছে।
পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীন আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় ঝড়ে ৭১টি খুঁটি ভেঙে গেছে। অসংখ্য স্থানে বৈদ্যুতিক সংযোগের ওপরে গাছ ভেঙে পড়েছে। ৫৫০টি মিটার ভেঙেছে এবং ৭৩৮টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। এই ছয়টি উপজেলায় ৩৫টি মিটার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে ২৭ হাজার গ্রাহকের।
কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন মেরামতের কাজ করছি আমরা।’











